“মমতা দিল্লি যান, বাংলায় কিছু হবে না!”-ভাইপো-কে খোঁচা দিয়ে বিস্ফোরক শুভেন্দু!

রাজ্য পুলিশকে দেওয়া অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চরম হুঁশিয়ারির পর রাজ্য রাজনীতিতে পারদ চড়ল তুঙ্গে। শুক্রবার ‘জনতার দরবার’ থেকে সোডিয়াম-পটাশিয়ামের খোঁচা দেওয়ার পর বিকেলেই ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদকে সরাসরি ধুলিসাৎ করার হুঙ্কার দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে অভিষেকের জামানত জব্দ করার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন তিনি।

একইসঙ্গে রাজ্য রাজনীতিতে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ার দাবি তুলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও সোজা দিল্লি গিয়ে রাজনীতি করার পরামর্শ দিয়েছেন শুভেন্দু।

‘যত ভোটে জিতেছিলেন, তার চেয়ে বেশি ভোটে হারাব!’

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকে ৭ লক্ষ ১০ হাজার ৯৩০ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই পরিসংখ্যান উল্লেখ করে চরম চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে শুভেন্দু বলেন—

“২০২৯ সালের ভোটে দাঁড়ান। যত ভোটে জিতেছিলেন, তার চেয়ে অন্তত একটা হলেও বেশি ভোটে হারাব! সিপিএমের ভোট পেলেও আপনাদের কিচ্ছু করার থাকবে না।”

পাশাপাশি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে তিনি বলেন, “আপনি এবার দিল্লিতে গিয়ে কাজ করুন। পশ্চিমবঙ্গে আর আপনার কিছু হওয়ার নেই।”

ঠিক কী বলেছিলেন অভিষেক?

বৃহস্পতিবার বিরোধী শিবিরের প্রতি ইঙ্গিত করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া ভাষায় পুলিশ প্রশাসনের একাংশকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, সরকারের বদল ঘটলে দু’বছরের মধ্যে বিজেপি ঘেঁষা পুলিশকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি কারও পায়ে পড়লেও রেয়াত করা হবে না বলে তিনি জানান।

‘সোডিয়াম-পটাশিয়ামের গণ্ডগোল!’ পাল্টা তোপ শুভেন্দুর

অভিষেকের ওই বক্তব্যের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রথমে ‘জনতার দরবার’ এবং পরে বারুইপুরের জনসভা থেকে তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

  • স্বাস্থ্য নিয়ে কটাক্ষ: সকালেই তিনি বলেন, “মনে হচ্ছে শরীরের সোডিয়াম-পটাসিয়ামে গণ্ডগোল হয়েছে। নিউ ইয়র্কে চিকিৎসা করাতে যেতে চাইলে যান, আমরা NOC দিয়ে দেব।”

  • হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব: বারুইপুরের সভা থেকে শুভেন্দু মনে করিয়ে দেন—ভোটের সময় বিরোধীদের জন্য ‘ইলেকট্রিক চুল্লি’ তৈরির হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তিনি জানান, বিজেপি নেতৃত্ব সংযত রয়েছে বলেই কর্মীরা শান্ত আছেন।

জমি দখল মুক্ত করা ও গঙ্গাসাগর মেলা নিয়ে বড় ঘোষণা

বারুইপুরের মঞ্চ থেকে জমি দখলের অভিযোগ নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব শওকত মোল্লা ও জাহাঙ্গির খানের নাম তুলে তিনি অভিযোগ করেন, সুপরিকল্পিতভাবে বহু জমি বেআইনি দখল করা হয়েছে। শুভেন্দু প্রতিশ্রুতি দেন, ওই সমস্ত দখল হওয়া জমি উদ্ধার করে তফসিলি জাতি ও জনজাতি সম্প্রদায়ের মানুষের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

সবশেষে গঙ্গাসাগর মেলা নিয়ে রাজ্য সরকারের নতুন দৃষ্টিভঙ্গির কথা ঘোষণা করে তিনি বলেন, “এবারের গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত করা হবে, দেখে নেবেন।”