“বাড়িতে পুলিশ পৌঁছতেই চরম দৃশ্য!”-সিভিক ভলান্টিয়ারের রহস্যমৃত্যুর নেপথ্যে কি কারণ?

বাড়ি থেকে উদ্ধার হলো এক সিভিক ভলান্টিয়ারের ঝুলন্ত দেহ! উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুর থানা এলাকার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত সিভিক ভলান্টিয়ারের নাম অনির্বাণ বসু। তবে মৃত্যুর চেয়েও বেশি রহস্য দানা বাঁধছে তাঁর ঘরের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটটিকে ঘিরে, যেখানে স্থান পেয়েছে এক মহিলা আইনজীবী এবং একাধিক সহকর্মীর নাম!
বাড়িতে পুলিশ আসতেই সামনে এল মর্মান্তিক দৃশ্য
অনির্বাণ দত্তপুকুরের নিবাধুই এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর মা কল্পনা বসু জানান, বৃহস্পতিবার রাতে দত্তপুকুর থানার পুলিশ ও কয়েক জন সিভিক ভলান্টিয়ার তাঁদের বাড়িতে আসেন। দরজায় ধাক্কাধাক্কির পর দরজা খোলা হলে পুলিশ সোজা অনির্বাণের ঘরের দিকে যায়। ঘরে ঢুকে তারা দেখতে পান—ভেতর থেকে অনির্বাণের দেহ ঝুলছে। অনির্বাণের মা আক্ষেপের সুরে জানান, ছেলে বন্ধ ঘরে নিজের সঙ্গে কী করছিল, সে বিষয়ে তাঁর কোনো ধারণাই ছিল না।
প্রেমঘটিত টানাপোড়েন ও মানসিক অত্যাচার?
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবার সূত্রের চাঞ্চল্যকর দাবি, উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে যে মহিলা আইনজীবীর নাম রয়েছে, তাঁর সঙ্গে অনির্বাণের দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু সম্প্রতি সেই সম্পর্কে বিচ্ছেদ ঘটে।
পরিবারের সরাসরি অভিযোগ—
সম্পর্ক ভাঙার পর থেকেই ওই মহিলা আইনজীবী অনির্বাণকে প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছিলেন।
অনির্বাণকে আইনি ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছিল।
একই সঙ্গে সুইসাইড নোটে বেশ কয়েকজন সহকর্মী সিভিক ভলান্টিয়ারের নামও উল্লেখ রয়েছে।
এই ক্রমাগত মানসিক চাপ ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের কারণেই অনির্বাণ চরম পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে পরিবারের অভিযোগ।
তদন্তে পুলিশ
পুলিশ সূত্রে খবর, পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে যে সমস্ত ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ রয়েছে, এই মৃত্যুর পেছনে তাঁদের কোনো প্ররোচনা (Abetment to Suicide) বা প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই মৃতদেহের ময়নাতদন্তের আয়োজন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর আসল কারণ এবং সময় স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।