ইন্টারনেটে এআই ঘেঁটে ঘরেই বিষমদ তৈরির ভয়ংকর ফাঁদ! মধ্যপ্রদেশে ১৩ জনের প্রাণ কেড়ে নেওয়ার নেপথ্যে যা ঘটল

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার যে কত বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে, তারই এক ভয়ংকর নিদর্শন সামনে এল মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস জেলায়। ইন্টারনেটে এআই চ্যাটবট ঘেঁটে ঘরে বসে বিষমদ তৈরির ফর্মুলা শিখে কারবার ফেঁদেছিল দুষ্কৃতীরা। আর সেই ভেজাল মদ খেয়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৩ জন নিরীহ মানুষ। এই ঘটনায় বিষাক্ত মদের নেটওয়ার্কের সঙ্গে এআই ব্যবহারের যোগসূত্র প্রকাশ্যে আসতেই গোটা এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।

পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পেরেছে, এই কারবারের মূল পাণ্ডা অজয় রাঠোর ইন্টারনেটে এআই টুলের সাহায্যে অনুসন্ধান চালিয়েছিল কীভাবে কম খরচে ঘরোয়া পদ্ধতিতে মদ তৈরি করা যায়। এআই থেকে পাওয়া তথ্য ও ফর্মুলার ওপর ভরসা করে ইন্দোরের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বিপজ্জনক রাসায়নিক সংগ্রহ করে সে। গত ১ অক্টোবর রাসায়নিকের চালান হাতে পাওয়ার পরই তার দলবল পুরনো ও ফেলে দেওয়া মদের বোতলে এই রাসায়নিক মিশ্রণ ভরে প্যাকেজিং শুরু করে। সাধারণ মানুষ যাতে সহজে ভেজাল ধরতে না পারেন, সেজন্য আসল দেশি মদের সঙ্গে এই বিষাক্ত রাসায়নিক মিশিয়ে তা স্থানীয় চান্দানা ও বিঞ্জানা গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।

কিছুদিনের মধ্যেই ওই মদ পান করে একের পর এক মানুষের অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর আসতে থাকে এবং অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু ঘটে। শুরুতে জেলা প্রশাসন এই মৃত্যুর পেছনে বিষমদের ভূমিকা মানতে চায়নি এবং স্বাভাবিক রোগ বা বার্ধক্যজনিত কারণ বলে এড়ানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হলে রাজ্য সরকার পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে দেওয়াসের জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকে দ্রুত বদলি করা হয় এবং আবগারি দপ্তরের তিন আধিকারিককে বরখাস্ত করা হয়েছে।