চার বছরের রক্ত জল করা লড়াই, সন্তানের জন্মের পর শরীর নিয়ে তুলোধোনায় ক্যাটরিনার মোক্ষম তোপ!

সোশাল মিডিয়ায় কোনো তারকার চেহারার সামান্য রদবদল নিয়ে কটাক্ষ করাটা আজকাল নেটিজেনদের একাংশের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর আম্বানি পরিবারের জমকালো গণেশ পুজোয় সশরীরে উপস্থিত হওয়ার পর থেকেই অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফের ‘পোস্ট-প্রেগন্যান্সি’ লুক নিয়ে নেটপাড়ায় শুরু হয় তুমুল আলোচনা ও অহেতুক ট্রোলিং। ‘আগে কেমন দেখতে ছিলেন আর এখন কেমন হয়েছেন’—এমন রগরগে তুলনামূলক পোস্টও নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। তবে ট্রোলারদের তৈরি করা অন্যায্য মাপকাঠিতে নিজের জীবনকে চালনা করতে নারাজ এই বলিউড ডিভা। অবশেষে এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে ট্রোলারদের যোগ্য জবাব দিয়ে কড়া বার্তা দিলেন ক্যাটরিনা।

সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে ট্রোলারদের একহাত নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন ভিকি-পত্নী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা এমন এক অদ্ভুত পৃথিবীতে বাস করি যেখানে মানুষের চিন্তাভাবনা প্রতি মুহূর্তে বদলায়। সন্তান জন্ম দেওয়ার পর একজন নারীর শরীরে কী ধরণের হরমোনাল ও শারীরিক পরিবর্তন আসে, তা বিজ্ঞানের দৌলতে আজ আর কারও অজানা নয়। এত তথ্যের যুগে দাঁড়িয়েও কেউ যদি ইচ্ছে করে খুঁত খোঁজে, তবে সেটা তার সস্তা মানসিকতা।” ক্যাটরিনা জানান, এই সমস্ত নেতিবাচক মন্তব্যকে দূরে সরিয়ে তিনি এখন সন্তান বিহানের সঙ্গে জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তটি উদযাপন করতে চান।

সমাজে একটি অলিখিত চাপ থাকে যে মা হওয়ার পর নায়িকাদের নাকি অলৌকিক উপায়ে খুব দ্রুত পুরনো চেহারায় ফিরতে হবে, যাকে চলতি ভাষায় বলে ‘বাউন্স ব্যাক’। এই শব্দটিতেই তীব্র আপত্তি প্রকাশ করেছেন ক্যাটরিনা। পালটা প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “বাউন্স ব্যাক কথাটির মানে কী? আমি তো পিছিয়ে যাইনি, বরং জীবনে এক ধাপ এগিয়ে গিয়েছি। চার বছরের এক দীর্ঘ ও কঠিন লড়াইয়ের পর আমি আর ভিকি আমাদের সন্তান বিহানকে পেয়েছি। আমি ফিটনেস নিয়ে সচেতন এবং জানি কখন আমায় কী করতে হবে, তবে তা হবে সম্পূর্ণ আমার নিজস্ব ছন্দে।” মাতৃত্বের স্বাভাবিক রূপকে সমাজ যেভাবে ‘কুৎসিত’ বলে দাগিয়ে দেয়, তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ক্যাটরিনা বুঝিয়ে দিলেন, তিনি নিজের শর্তেই জীবন বাঁচবেন।