‘সব কর্মসূচি বাতিল!’ স্পেনে মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায় রক্তগঙ্গা, শোকস্তব্ধ প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ

ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় কেঁপে উঠল স্পেন। বুধবার টলেডোর কাছে মোরার ও অর্গাজ শহরের মধ্যবর্তী এলাকায় দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় একাধিক কামরা লাইনচ্যুত হয়ে রেললাইনের পাশের ঢালে গড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর থেকেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়েছে উদ্ধারকাজ।

কীভাবে ঘটল এই দুর্ঘটনা?

স্থানীয় সময় বুধবার সকাল ৯টার কিছু পরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। মাদ্রিদ থেকে সেভিলের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া ‘রেনফে’ (Renfe) এবং ‘ইরিও’ (Iryo)— এই দুটি সংস্থার দ্রুতগতির ট্রেনের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ইরিও ট্রেনের অন্তত দুটি কামরা লাইনচ্যুত হয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা আঞ্চলিক সরকারের মুখপাত্র এস্থার পাদিয়া জানিয়েছেন, ইরিও ট্রেনে এক শিশুসহ ১৪৭ জন এবং রেনফে ট্রেনে ৩৯৭ জন যাত্রী সওয়ার ছিলেন।

উদ্ধারকাজ ও জরুরি চিকিৎসা:

দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল দমকল বাহিনী, উদ্ধারকারী দল ও চিকিৎসকদলের সদস্যরা। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে থাকা যাত্রীদের নিরাপদে বের করে আনা হয়। আহতদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য টলেডো, আলকাজার দে সান হুয়ান এবং সিউদাদ রিয়ালের হাসপাতালগুলিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থলের ছড়িয়ে থাকা ছবি ও ভিডিওতে কামরাগুলোর কঙ্কালসার ও দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া রূপ দেখে শিউরে উঠছেন সাধারণ মানুষ।

প্রধানমন্ত্রীর শোক ও কর্মসূচি বাতিল:

এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। পরিস্থিতির ওপর নিজে নজর রাখতে তিনি সংশ্লিষ্ট পরিবহণমন্ত্রী ও আঞ্চলিক সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে এই মর্মান্তিক ঘটনার জেরে নিজের সমস্ত পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল করেছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি, বিরোধী পিপলস পার্টিও তাদের সমস্ত নির্বাচনী প্রচার কর্মসূচি স্থগিত রেখেছে।

৯ মাসের মধ্যে ফের একই রুটে রক্তপাত!

স্পেনের এই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা নতুন করে রেলের সুরক্ষা ও পরিকাঠামো নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, এর মাত্র ৯ মাস আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতেই কর্ডোবা প্রদেশের আদামুজের কাছে একই রেলপথে ইরিও ও রেনফে ট্রেনের সংঘর্ষে ৪৬ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল। পরপর এমন হাই-স্পিড ট্রেন দুর্ঘটনার জেরে স্পেনের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।