“আমার নীরবতাকে দুর্বলতা ভাববেন না…!”, বিচ্ছেদের জল্পনা ও মেয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ না পেয়ে কেন গর্জে উঠলেন স্বরূপ বিশ্বাস?

ব্যক্তিগত জীবন এবং দাম্পত্য সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে এতদিন নীরবই ছিলেন তিনি। তবে এবার সেই নীরবতার প্রাচীর ভেঙে সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ ও আবেগঘন এক পোস্ট করলেন তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা তথা অভিনেত্রী জুঁই মজুমদার বিশ্বাসের স্বামী স্বরূপ বিশ্বাস। সন্তানকে কাছে না পাওয়া এবং নিজের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলার বিরুদ্ধে ফেসবুক পোস্টে ক্ষোভ উগরে দিয়ে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার কথা স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি।
“নীরবতারও একটা সীমা আছে”: ক্ষুব্ধ স্বরূপ
ফেসবুক দেওয়া বিশেষ বার্তায় স্বরূপ বিশ্বাস লেখেন, “আমার নীরবতাকে দুর্বলতা ভাববেন না। একজন বাবা হিসেবে আমার অধিকার, আত্মসম্মান ও সন্তানদের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষার লড়াই আমি আইনের পথেই চালিয়ে যাব।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আজ পর্যন্ত নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কখনও সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলিনি। সোশ্যাল মিডিয়াতেও ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু লিখিনি। কারণ আমি বিশ্বাস করি, ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রতিটি অধ্যায় জনসমক্ষে তুলে ধরার বিষয় নয়। কিন্তু নীরবতারও একটা সীমা আছে। যখন সেই নীরবতাকে দুর্বলতা বলে ব্যাখ্যা করা হয়, যখন আমার চরিত্র নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলা হয় এবং সর্বোপরি, নিজের সন্তানদের সঙ্গে স্বাভাবিক যোগাযোগ ও সাক্ষাতের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতেও আমাকে বারবার বাধার মুখে পড়তে হয়, তখন নিজের বক্তব্য তুলে ধরা আমার কাছে প্রয়োজনীয় হয়ে ওঠে।”
কোর্ট কমিশনারের উপস্থিতিতেও মিলল না মেয়ের দেখা
মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে না পারার চরম কষ্টের কথা ব্যক্ত করে স্বরূপ বিশ্বাস জানান, আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার সব প্রস্তুতি তিনি নিচ্ছেন।
তিনি লেখেন, “গত রবিবার মহামান্য আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, কোর্ট কমিশনারের উপস্থিতিতে একটি শপিং মলে আমার ছোট মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। প্রায় দেড় ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তার সঙ্গে দেখা করতে পারিনি। কেন আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নির্ধারিত সাক্ষাৎ সম্পন্ন হল না, তার যথাযথ ব্যাখ্যা আমি চাই। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হব।”
সন্তানের টানে একজন বাবার আইনি ও মানসিক লড়াইয়ের কথা তুলে ধরে তিনি স্পষ্ট ভাষায় লেখেন, “একজন বাবার কাছে নিজের সন্তানের সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষা কতটা কষ্টের, তা যাঁরা এমন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাননি, তাঁদের পক্ষে হয়তো উপলব্ধি করা কঠিন। আমার কাছে এটি কোনও ব্যক্তিগত জেদের বিষয় নয়। এটি আমার সন্তানদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার প্রশ্ন, তাদের মানসিক সুস্থতার প্রশ্ন এবং আদালতের নির্দেশ যথাযথভাবে কার্যকর হওয়ার প্রশ্ন।”
জুঁই মজুমদারের ‘হুলাইগানিজম’ মন্তব্যের পাল্টা উত্তর
সম্প্রতি তাঁর স্ত্রী তথা অভিনেত্রী জুঁই মজুমদার বিশ্বাস সোশ্যাল মিডিয়ায় স্বরূপের বিরুদ্ধে ‘hooliganism’ বা গুণ্ডামির অভিযোগ তুলে একটি পোস্ট করেন। সেই পোস্টের প্রসঙ্গ টেনেই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন স্বরূপ।
তিনি জানান, এতদিন ধরে মানুষ কেবল একটি দিকই দেখে এসেছে। জুঁইয়ের পোস্টটি নজরে আসার পরই তিনি মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছেন। স্বরূপের বক্তব্য, “আমি কাউকে তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রকাশ্যে আক্রমণ করতে চাই না। কিন্তু আমার বক্তব্য না শুনেই যদি আমাকে একটি নির্দিষ্ট নেতিবাচক পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার অধিকার আমারও রয়েছে।”
পারিবারিক টানাপোড়েন এবং আদালত অবমাননার এই জটিল পরিস্থিতিতে স্বরূপ বিশ্বাসের এই ফেসবুক বার্তা রাজ্য রাজনীতি ও সোশ্যাল মিডিয়ায় জোর চর্চার জন্ম দিয়েছে।