“তাহলে তো সব নিউজরুম বন্ধ করে দিতে হবে!” তথ্য সুরক্ষা আইন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে তুমুল বিতর্ক, কেন্দ্রকে নোটিস

ডিজিটাল ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ আইন (Digital Personal Data Protection Act)-এর পরিবর্তিত পরিসর ও কড়াকড়িকে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হল ‘ডিজিটাল নিউজ পাবলিশার্স অ্যাসোসিয়েশন’ (DNPA)। এই আইনে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সাধারণ মানুষের তথ্য জানার অধিকার মারাত্মকভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে ডিজিটাল মিডিয়া সংগঠনগুলি। মঙ্গলবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি শেষে কেন্দ্র সরকারের অবস্থান জানতে চেয়ে নোটিস জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আগামী ১৭ নভেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
আইনের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ DNPA-র?
ডিজিটাল মিডিয়ার প্রথম সারির একাধিক সংবাদ প্রতিষ্ঠান নিয়ে গঠিত DNPA সুপ্রিম কোর্টে একটি আবেদন জানিয়েছে। তাদের দাবি, পরিবর্তিত তথ্য সংরক্ষণ আইনের কিছু কিছু ধারা সম্পূর্ণ ‘অসাংবিধানিক’ এবং অবিলম্বে সেগুলি বাদ দেওয়া উচিত।
সংগঠনের যুক্তি, সংবাদ সংগ্রহের কাজে বা প্রকাশের ক্ষেত্রে যদি কোনো বিশেষ ছাড় বা আইনি সুরক্ষার ব্যবস্থা না থাকে, তবে তা স্বাধীন সাংবাদিকতাকে পঙ্গু করে দিতে পারে। বিশেষ করে অনুসন্ধানমূলক বা ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং খবরের বিশ্বস্ত সূত্রগুলির গোপনীয়তাও চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে।
“নিউজরুম বন্ধ করে দিতে হবে”: আদালতে সওয়াল মাধবী দিওয়ানের
সুপ্রিম কোর্টে DNPA-র পক্ষে সওয়াল করেন বিশিষ্ট আইনজীবী তথা সিনিয়র অ্যাডভোকেট মাধবী দিওয়ান। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চের সামনে তিনি জোরালো সওয়াল করেন।
আইনজীবী আদালতকে অনুরোধ জানান যে, ডিজিটাল ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ আইনের পরিবর্তিত অংশে অবিলম্বে স্থগিতাদেশ দেওয়া হোক। অন্যথায় সারা দেশের সমস্ত নিউজরুম বা সংবাদকক্ষগুলি বন্ধ করে দেওয়ার উপক্রম হবে।
আদালতে মাধবী দিওয়ান বলেন, “আমাদের কি এবার তথ্যের কর্তার মর্জির ওপর নির্ভর করতে হবে? টিভিতে যা লাইভ সম্প্রচার হচ্ছে, তার জন্য কি ব্যক্তির অনুমতি নিতে হবে? এমন পরিস্থিতি চললে তো নিউজরুম বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া গতি থাকবে না। প্রতি পদক্ষেপে অনুমতি নিয়ে খবর করতে হলে তার কোনো অর্থই হয় না।”
কেন্দ্রের জবাব তলব এবং আদালতের পর্যবেক্ষণ
আইনজীবীর বক্তব্য শোনার পর সুপ্রিম কোর্ট অবশ্য তাৎক্ষণিকভাবে কোনো একতরফা স্থগিতাদেশ দিতে রাজি হয়নি। বেঞ্চের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয় যে, অপর পক্ষের (কেন্দ্র সরকারের) বক্তব্য না শুনে আদালত কোনো অন্তর্বর্তী আদেশ দিতে পারে না।
প্রধান বিচারপতি আইনজীবীর উদ্দেশে বলেন, “এই বিষয়ে আপনার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। আইনটির যাতে কোনো অপব্যবহার না হয়, সে বিষয়ে আপনি সরকারকে গঠনমূলক পরামর্শ দিতে পারেন।”
জবাবে মাধবী দিওয়ান জানান, আদালত যদি এই আইনটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখে, তবেই তারা বুঝতে পারবে যে এটি বর্তমান সাংবাদিকতার কাঠামোর সঙ্গে পুরোপুরি অসঙ্গতিপূর্ণ। পূর্বতন সেন্সরশিপের মতো পরিস্থিতি তৈরি না করে সংবাদমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা রক্ষায় আদালতের হস্তক্ষেপ এখন অত্যন্ত জরুরি বলে দাবি করেছে ডিজিটাল মিডিয়া সংগঠন।