লক্ষ্যের চেয়েও ১০৯% বেশি খরচ! রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা কোল ইন্ডিয়ার এই অভাবনীয় চালে কী ঘটতে চলেছে এবার?

ভারতের অন্যতম শীর্ষ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা কোল ইন্ডিয়া লিমিটেড (CIL) চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ষাণ্মাসিকে (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর ২০২৬) তাদের মূলধনী ব্যয়ে (Capex) এক বিশাল সাফল্য অর্জন করেছে। সংস্থাটির মূলধনী ব্যয় গত অর্থবর্ষের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭,৯৬৬ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। গত বছর এই খরচের পরিমাণ ছিল ৬,২৮৩ কোটি টাকা। কোল ইন্ডিয়ার এই রেকর্ড পরিমাণ বিনিয়োগ দেশের শক্তি ক্ষেত্রে এবং পরিকাঠামো উন্নয়নে এক বিশাল ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

লক্ষ্যের চেয়েও বেশি অগ্রগতি:
চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ষাণ্মাসিকে কোল ইন্ডিয়ার ক্যাপিটাল খরচের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭,২৮৬ কোটি টাকা। তবে চমৎকার পরিকল্পনা এবং পরিকাঠামোগত সক্রিয়তার কারণে কোম্পানি এই নির্ধারিত লক্ষ্যের তুলনায় ১০৯ শতাংশ অর্থ ব্যয় করতে সক্ষম হয়েছে। এটি তাদের পুরো অর্থবর্ষের নির্ধারিত ১৬,৫০০ কোটি টাকার লক্ষ্যের ৪৮ শতাংশেরও বেশি।

কোথায় খরচ হলো এই বিপুল অর্থ?
কোল ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় অংশ ব্যয় হয়েছে খনি অঞ্চলের পরিকাঠামো উন্নয়নে, যার পরিমাণ ২,১৫২ কোটি টাকা। জমি অধিগ্রহণের জন্য খরচ করা হয়েছে ২,০৩৩ কোটি টাকা। এছাড়াও খনির আধুনিকীকরণ ও নতুন প্রকল্পের রূপায়ণে ১,০০০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয় করা হয়েছে। ভারি যন্ত্রপাতি (HEMM) এবং ওয়াশারি প্ল্যান্টের জন্য ১,৩৯৪ কোটি টাকা এবং কেবল HEMM ক্রয়ে ৪৫২ কোটি টাকা খরচ হয়েছে।

ভবিষ্যতের প্রস্তুতি ও শক্তির নিরাপত্তা:
দেশের মোট কয়লা উৎপাদনের ৮০ শতাংশেরও বেশি যোগান দেয় কোল ইন্ডিয়া। প্রথাগত কয়লা উত্তোলনের পাশাপাশি সংস্থাটি তাদের সৌর শক্তি, ক্রিটিক্যাল মিনারেল, কোল গ্যাসিফিকেশন এবং তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন সংক্রান্ত বিবিধ প্রকল্পে ৭৩৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। খনির উন্নয়ন, যন্ত্রপাতি ও আধুনিকীকরণের এই বিশাল বিনিয়োগ কোম্পানির উৎপাদন ও সরবরাহ ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে।