“যে যেমন ভাববে, দেশ সেভাবেই চলবে!” শিলিগুড়ির বিতর্কিত বিরিয়ানি পোস্টার নিয়ে কী বললেন মহাগুরু?

“বিরিয়ানি খান, কিন্তু হিন্দু দোকান থেকে।” শিলিগুড়ি শহরের দেওয়ালে দেওয়ালে সাঁটানো এই ধরনের একাধিক পোস্টার ঘিরে বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে চরম শোরগোল। খোদ রাজ্যের মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষের বাড়ির সামনেও এই পোস্টার দেখা যাওয়ায় বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে। আর এবার এই বিতর্কিত পোস্টার ইস্যুতেই রাখঢাক না রেখে মুখ খুললেন মহাশক্তি অভিনেতা তথা বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী।

ঠিক কী বিতর্ক শিলিগুড়িতে? সম্প্রতি শিলিগুড়ির বিভিন্ন এলাকায় ‘হিন্দু জাগরণ মঞ্চ’-এর ব্যানারে কিছু পোস্টার সামনে আসে। যেখানে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়, পুজোর সামগ্রী কিংবা বিরিয়ানি—সবকিছুই কিনতে হবে বা খেতে হবে একমাত্র হিন্দু দোকান থেকেই। এমনকী রাজ্যের মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষের বাড়ির এলাকাতেও এই পোস্টার দেখা যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র নিন্দা শুরু করে বিরোধী শিবির।

শিলিগুড়ির প্রাক্তন মেয়র তথা বাম নেতা অশোক ভট্টাচার্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটা জঘন্যতম মানসিকতা। কে কী খাবেন, কে কী পরবেন বা কোন দোকান থেকে জিনিস কিনবেন, তা সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। পুলিশের অবিলম্বে এই বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

অন্যদিকে, এই পোস্টারকে সমর্থন করেই হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সহ-সংযোজক সৌমিক বসু দাবি করেন, “হিন্দুদের স্বাবলম্বী করার বার্তা যদি আমরা মানুষের কাছে পৌঁছে দিই, তবে তাতে বিতর্কের কোনও অবকাশ থাকে না।”

কী বললেন মিঠুন চক্রবর্তী? তৃতীয়ার দিন উত্তর ২৪ পরগনার আগরপাড়ায় একটি পুজো উদ্বোধনে গিয়েছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী। সেখানে তাঁর কাছে শিলিগুড়ির এই বিতর্কিত বিরিয়ানি পোস্টার নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। হিন্দু জাগরণ মঞ্চের এই পোস্টারকে ঘুরিয়ে সমর্থনই করেছেন মহাগুরু।

এদিন মিঠুন চক্রবর্তী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “যে যেরকম ভাবে ভাববে, সেভাবে দেশ চলবে। ওরা যদি ভেবে থাকে, হবে।” অভিনেতার এই মন্তব্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে তরজা শুরু হয়েছে। বিরোধীদের একাংশের মতে, এই ধরনের মন্তব্য সমাজে বিভাজন আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে, অন্যদিকে অনুগামীদের দাবি—এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ভাবনা। সবমিলিয়ে শিলিগুড়ির বিরিয়ানি পোস্টার কাণ্ড ও মিঠুনের এই মন্তব্য ঘিরে পুজোর মরসুমেও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বাংলার রাজনীতি।