মেট্রো বন্ধ থেকে অবৈধ আটক, সুপ্রিম কোর্টের তোপের মুখে কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশ, আজ চরম সিদ্ধান্ত?

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের বিভিন্ন অসঙ্গতির বিরুদ্ধে চলা তীব্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অস্থিরতার আবহেই আজ সুপ্রিম কোর্টে একগুচ্ছ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি হতে চলেছে। প্রতিবাদের সময়ে নাগরিকদের অবৈধভাবে আটক করা, আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি বলপ্রয়োগ, এবং দিল্লির মেট্রো ও ট্রেন পরিষেবা বন্ধ রাখার অভিযোগে দায়ের হওয়া একাধিক আদালত অবমাননার মামলার শুনানি আজ সর্বোচ্চ আদালতে। পাশাপাশি, এসআইআর (SIR)-এর বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর করা একটি পৃথক আবেদনের ওপরও আজ বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
আইনি মহলের মতে, আজকের এই শুনানিতে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে ১১ জন বিরোধী নেত্র-নেত্রীর করা বিশেষ মামলাটি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে গত সোমবার রাহুল গান্ধীসহ তাবড় বিরোধী নেতারা সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে এক বিশাল মিছিল করেছিলেন। পরবর্তীতে সর্বোচ্চ আদালতে একটি পিটিশন দায়ের করা হয়, যেখানে পক্ষ করা হয় জাতীয় নির্বাচন কমিশন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং নির্বাচন কমিশনার বিবেক জোশী ও সুখবীর সিং সানধুকে। তবে ওই পিটিশনে ১০টিরও বেশি ত্রুটি থাকায়, আদালত ভুল শুধরে ফের তা দাখিল করতে নির্দেশ দেয়। সংশোধিত সেই মামলাগুলিরই আজ চূড়ান্ত শুনানি হওয়ার কথা।
এর আগে গত ১১ অক্টোবর এই আন্দোলন সংক্রান্ত বিষয়ে একটি বিশেষ ছুটির দিন সত্ত্বেও বিশেষ বেঞ্চ গঠন করে শুনানি চালিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার সমন্বয়ে গঠিত সেই বিশেষ বেঞ্চ অত্যন্ত কঠোর নির্দেশ দিয়েছিল। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, দেশের আইন-শৃঙ্খলার সার্বিক পরিস্থিতি বজায় রেখে কোনও অবস্থাতেই যেন কোনও নাগরিককে অবৈধভাবে আটক না করা হয়। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে এবং মেট্রো ও ট্রেন পরিষেবা যেন কোনও ধরনের বাধা ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছন্দে সচল থাকে। এছাড়া ইন্টারনেট পরিষেবায় যাতে কোনও রূপ অনাবশ্যক বিঘ্ন না ঘটে, সেদিকেও কড়া নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
শুনানিকালে সর্বোচ্চ আদালত তার পর্যবেক্ষণে পরিষ্কার জানিয়েছিল যে, মেট্রো বা রেল চলাচলের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা বা লাগামছাড়া কড়াকড়ি আরোপ করা আদতে আদালতের আগের নির্দেশকে সরাসরি অগ্রাহ্য করার শামিল। সেই প্রেক্ষিতেই আদালত অবমাননার স্পষ্ট প্রমাণ দেখতে পেয়ে বেঞ্চের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় সরকার, দিল্লি পুলিশ এবং দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন (ডিএমআরসি)-কে কড়া নোটিস পাঠানো হয়েছিল এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আজকের এই মেগা শুনানিতে সর্বোচ্চ আদালত এই স্পর্শকাতর বিষয়ে কী ধরনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে বা চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করে, এখন সেদিকেই সমগ্র দেশের রাজনৈতিক ও আইনি মহলের তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে।