ধর্মান্তরে কি খোয়া যায় সংরক্ষণের অধিকার? সুপ্রিম কোর্টের মেগা রায়ে বড় ধাক্কা তামিলনাড়ু সরকারের!

হিন্দুধর্ম ছেড়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেই শুধুমাত্র ধর্মান্তরের আগের জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে অনগ্রসর শ্রেণির (OBC) সংরক্ষণের সুবিধা দাবি করা যাবে না। গত ১৫ অক্টোবর এই সংক্রান্ত মাদ্রাজ হাই কোর্টের ঐতিহাসিক রায় বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট। এর ফলে তামিলনাড়ু সরকারের আনা বিতর্কিত সরকারি নির্দেশটি খারিজ হয়ে গেল।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি শ্রী চন্দ্রশেখরের বেঞ্চ তামিলনাড়ু সরকারের করা বিশেষ অনুমতি আবেদন (SLP) খারিজ করে দিয়েছে। ২০২৪ সালে রাজ্য সরকারের জারি করা একটি নির্দেশকে অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করেছিল মাদ্রাজ হাই কোর্ট। ওই নির্দেশে বলা হয়েছিল, নির্দিষ্ট কিছু অনগ্রসর সম্প্রদায় থেকে ইসলাম গ্রহণ করা ব্যক্তিরা সাতটি স্বীকৃত অনগ্রসর মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে কমিউনিটি সার্টিফিকেট বা শংসাপত্র পেতে পারেন। তবে সুপ্রিম কোর্ট পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, হিন্দুধর্ম ছেড়ে অন্য ধর্ম গ্রহণ করলেই আগের সামাজিক পরিচয়ের ভিত্তিতে সংরক্ষণের সুবিধা পাওয়ার অধিকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হয় না।

আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, হিন্দু সামাজিক ব্যবস্থা থেকে অ-হিন্দু সামাজিক ব্যবস্থায় ধর্মান্তরিত কোনো ব্যক্তি শুধুমাত্র ধর্মান্তরের আগের সামাজিক অনগ্রসরতার ভিত্তিতে সংবিধানের ১৬(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ইতিবাচক পদক্ষেপের সুবিধা দাবি করতে পারেন না। আগের সামাজিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত অনগ্রসরতার পরিচয় কখনোই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন ধর্মীয় ব্যবস্থায় বহন করা সম্ভব নয়। ইসলাম, খ্রিস্টধর্ম বা অন্য কোনো অ-হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নতুন ধর্মীয় ব্যবস্থার কোনো নির্দিষ্ট স্বীকৃত অনগ্রসর সম্প্রদায়ের সদস্য হয়ে যান না। সংবিধান (তফসিলি জাতি) আদেশ, ১৯৫০-এর প্রসঙ্গ টেনে আদালত স্পষ্ট করেছে যে হিন্দুধর্ম, শিখধর্ম বা বৌদ্ধধর্ম ছাড়া অন্য ধর্মাবলম্বী ব্যক্তিদের তফসিলি জাতির মর্যাদা দেওয়া হয় না।

এই মামলার সূত্রপাত সমীর আহমেদের একটি আবেদনের মাধ্যমে। ২০১৫ সালে হিন্দুধর্ম ছেড়ে ইসলাম গ্রহণ করার পর ২০১৬ সালে গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে মুসলিম লাব্বাই সম্প্রদায়ের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে কমিউনিটি সার্টিফিকেটের আবেদন করলে তা খারিজ করে দেয় সংশ্লিষ্ট তহসিলদার। এই মামলার শুনানির মাধ্যমেই তামিলনাড়ু সরকারের ২০২৪ সালের ওই সরকারি নির্দেশের আইনি বৈধতা সামনে আসে। রাজ্য সরকার অনগ্রসর শ্রেণি কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে যুক্তি দিয়েছিল যে, আগে সংরক্ষণের সুবিধা পাওয়া ব্যক্তিরা ধর্মান্তরের পর যাতে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতেই এই নির্দেশ। তবে মাদ্রাজ হাই কোর্ট সেই যুক্তি খারিজ করে নির্দেশটি বাতিল করেছিল এবং সুপ্রিম কোর্টও সেই রায় বহাল রাখল। শীর্ষ আদালতের এই রায়ের ফলে দেশজুড়ে ধর্মান্তর ও সংরক্ষণ সংক্রান্ত নীতিতে এক স্পষ্ট আইনি বার্তা প্রতিষ্ঠিত হলো।