CJP নেতাদের সামনে হঠাৎ হাজির মহিলা পুলিশ, কেন নারীদেরই পাঠাল দিল্লি পুলিশ?

কথা ছিল দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার। কিন্তু তার আগেই দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তৈরি হলো এক নজিরবিহীন ও নাটকীয় পরিস্থিতি। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র যন্তর মন্তর অভিযানে যোগ দিতে যাওয়ার পথে মুম্বই থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান মাটিতে নামতেই ভেতরে ঢুকে পড়েন পুলিশকর্মীরা। আর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, CJP নেতা অভিজিৎ দীপকে এবং তাঁর সঙ্গীদের আটক করতে পুরুষ পুলিশকর্মীদের পরিবর্তে বিশেষভাবে মহিলা পুলিশকর্মীদের পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ কেন এই কৌশল নিল দিল্লি পুলিশ?

পুরুষ নয়, কেন পাঠানো হলো মহিলা পুলিশকর্মীদের?

বিশ্লেষকদের মতে, দিল্লি পুলিশের এই পদক্ষেপ ছিল অত্যন্ত সুচিন্তিত এক ‘মাস্টারস্ট্রোক’। অতীতে ২০ জুলাই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ছাত্র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সংসদ ভবনের সামনে যে হিংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তাতে CJP-র পক্ষ থেকে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে তরুণী ও ছাত্রীদের ওপর বলপ্রয়োগ এবং মারধরের গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছিল। বিশেষ করে জেন জি (Gen-Z) ও তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকায় পুলিশ কোনওভাবেই নতুন করে বড় ধরনের বিতর্ক বা সংঘাতের ঝুঁকি নিতে চায়নি।

তাছাড়া, বিমানের মতো আবদ্ধ স্থানে এবং ছোট করিডরে পুরুষ পুলিশকর্মীরা প্রবেশ করলে ধস্তাধস্তি থেকে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারত। সেই কারণেই উত্তেজনা এড়াতে এবং মহিলাদের সামনে রেখে খুব কৌশলে এই হাই-প্রফাইল গ্রেফতারি সম্পন্ন করা হয়। পুলিশের এই পরিকল্পনা যে সফল হয়েছিল, তা বিমানটির ভেতরের দৃশ্য থেকেই স্পষ্ট। শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই অভিজিৎ দীপকে এবং তাঁর সঙ্গীদের আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

বিমানের ভিতর ঠিক কী ঘটেছিল?

মুম্বই থেকে বিমানটি দিল্লিতে ল্যান্ড করার সঙ্গে সঙ্গেই ভেতরে পুলিশ প্রবেশ করায় চরম নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। জানলার ধারের আসনে বসে থাকা CJP প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সঙ্গে সঙ্গে নিজের মোবাইল ফোনে সেই ঘটনার ভিডিও রেকর্ড করতে শুরু করেন। তাঁর ঠিক পাশেই মাঝের আসনে ছিলেন সৌরভ দাস এবং অন্য আসনে ছিলেন আশুতোষ রাঙ্কা।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেতেই বিমানের করিডরে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ও ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান দিতে শুরু করেন CJP নেতারা। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, মহিলা পুলিশকর্মীরা তাঁদের ঘিরে ফেলছেন। সেই সময় অভিজিৎ দীপকে পুলিশকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, “আমি গ্রেফতার হতে এসেছি, আমাকে গ্রেফতার করুন।” পুরো ঘটনার সময় পুলিশ ও ধৃত নেতাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হলেও শেষ পর্যন্ত মহিলা পুলিশকর্মীদের তৎপরতায় শান্তভাবেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে দিল্লি পুলিশ।