“বাম আমলেও এমন দেখিনি!”-দিল্লি পুলিশকে তুলোধোনা মমতার, করলেন ক্ষোভ প্রকাশ

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীতে আয়োজিত প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি। শনিবার দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউয়ে ধর্নায় বসার অপরাধে দিল্লি পুলিশের হাতে আটক হন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ একাধিক হেভিওয়েট বিরোধী নেতা। মহালয়ার পবিত্র দিনে এই ধরনের পুলিশি হেনস্থাকে সরাসরি ‘অপমানজনক’ আখ্যা দিয়ে বাম আমলের থেকেও বর্তমান পরিস্থিতি অনেক বেশি ভয়ঙ্কর বলে তোপ দাগলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
সাউথ অ্যাভিনিউয়ের ধর্না ও নাটকীয় আটক
শনিবার সকালে দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউয়ের একটি বাসস্ট্যান্ডের সামনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে পোস্টার হাতে নিয়ে ধর্নায় বসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের একাধিক সাংসদ। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে সেখানে পুলিশ পৌঁছে জানিয়ে দেয়, এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি থাকায় এই অবস্থান করা যাবে না। শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ চললেও পুলিশ কথা শোনেনি এবং জোর করে তাঁদের আটক করে প্রিজন ভ্যানে তোলে।
মমতার সঙ্গে এদিন আটক হন তৃণমূলের হেভিওয়েট সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, সামিরুল ইসলাম এবং সাকেত গোখলে। এছাড়া অরবিন্দ কেজরিওয়াল, পিনারাই বিজয়ন এবং মানিক সরকারের মতো বিরোধী নেতারাও পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে আটক হন।
“বাম আমলেও এমন দেখিনি!” ক্ষোভ মমতার
পুলিশের হেফাজত থেকে বেরিয়ে এসে কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন মমতা। তিনি সাফ জানান, দশকের পর দশক বিরোধী রাজনীতি করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর, কিন্তু বাম আমলেও বিরোধীদের দমাতে এমন নিম্নমানের বা অগণতান্ত্রিক আচরণের মুখোমুখি হতে হয়নি। তাঁর অভিযোগ, প্রায় অপহরণের মতো কায়দায় তাঁদের আটক করে রাখা হয়েছিল। এই অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির কারণে তাঁর শনিবারের কলকাতা ফেরার নির্ধারিত বিমানও বাতিল করতে বাধ্য হন তিনি।
দিল্লিতে আরও এক দিন থাকার সিদ্ধান্ত
পুলিশি ধরপাকড়ের জেরে বিমান বাতিল হলেও রাজধানীতেই আরও এক দিন থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী তাঁকে সুপ্রিম কোর্ট সংক্রান্ত একটি বিশেষ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার অনুরোধ করেছেন। সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ও অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে আলোচনার পরই তিনি রাজধানীতে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। গণতন্ত্র বাঁচানোর এই লড়াইয়ে পিছপা না হয়ে শেষ দেখে ছাড়ার বার্তা দিয়েছেন মমতা।