ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামের দিন কি শেষ? এক দশক পর আবার ফিরছে সোশাল মিডিয়ার রাজা ‘Orkut’!

নাইনটিজ আর জেন-জি প্রজন্মের কাছে সোশাল মিডিয়া মানেই ছিল প্রথম যে নামটি, তা হলো— ‘Orkut’ (অর্কুট)। প্রযুক্তি ও সোশাল নেটওয়ার্কিংয়ের জগতে তৎকালীন সময়ে তোলপাড় সৃষ্টি করা এই জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মটি কিন্তু হুট করেই হারিয়ে গিয়েছিল ফেসবুকের আগমনে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর সেই পুরনো জাদুকে ফের ফিরিয়ে আনার জোর জল্পনা শুরু হয়েছে টেক-দুনিয়ায়। অর্কুটের প্রতিষ্ঠাতা অর্কুট বুয়ুককোকতেন (Orkut Büyükkökten) নিজেই ব্যবহারকারীদের কাছে নতুন করে এই নস্টালজিক যাত্রা শুরু করার জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় অর্কুট প্রতিষ্ঠাতার পোস্ট: সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X (পূর্বতন টুইটার)-এ এক পোস্টের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাতা বুয়ুককোকতেন ব্যবহারকারীদের সরাসরি Orkut.com ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজেদের নাম নথিভুক্ত বা রেজিস্টার করার আহ্বান জানিয়েছেন। কেবল নিজে নয়, অন্যদেরও এই উদ্যোগে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ পাঠাতে বলেছেন তিনি। ২০০৪ সালে গুগল-এ কাজ করার সময় এক পার্শ্ব-প্রকল্প হিসেবে অর্কুট তৈরি করেছিলেন বুয়ুককোকতেন, যা ভারত ও ব্রাজিলে প্রায় ৩০ কোটি সক্রিয় ব্যবহারকারীর মন জয় করে নিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে মেটার (তৎকালীন ফেসবুক) তীব্র প্রতিযোগিতা ও গুগলের নিজস্ব কৌশলের কারণে ২০১৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এআই ও অ্যালগরিদমের যুগে মানুষের ছোঁয়া ফেরানোর লড়াই: Orkut.com-এ প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে বুয়ুককোকতেন বর্তমান সোশাল মিডিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের গভীর উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, আজকের সোশাল মিডিয়া কেবল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং অ্যালগরিদমের ছকে বাঁধা কনটেন্টে ভরে গিয়েছে, যার ফলে আসল সামাজিক যোগাযোগ এবং সত্যিকারের একজন মানুষের সাথে যুক্ত হওয়ার যে আনন্দ, তা হারিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চমৎকার প্রযুক্তি, কিন্তু এর ফলে সোশাল নেটওয়ার্কিংয়ের সেই মূল উদ্দেশ্যই ফিকে হয়ে যাচ্ছে— তা হলো স্ক্রিনের অন্য প্রান্তে রক্তমাংসের একজন মানুষ রয়েছেন”।
যদিও অর্কুট পুরোপুরি নতুন রূপে কবে নাগাদ বাজার কাঁপাতে আসবে কিংবা প্ল্যাটফর্মটি তৈরির কাজ চূড়ান্ত রূপ পেয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনও খোলসা করে কিছু জানাননি প্রতিষ্ঠাতা। তবে টেক-প্রেমী ও পুরনো অর্কুট ব্যবহারকারীদের মনে যে এই নতুন বার্তাটি দারুণ উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।