‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে আটক নেতাদের না ছাড়লে অনশনে বসব!’ সরকারকে চরম হুঁশিয়ারি সোনম ওয়াংচুকের

ভোট চুরির অভিযোগ ও ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী দিল্লি. যন্তরমন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র ডাকা প্রতিবাদ আন্দোলন থেকে একের পর এক বিরোধী রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার ও আটকের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে. এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থাকে ‘অঘোষিত এমার্জেন্সি’ বলে আখ্যা দিয়ে কেন্দ্র সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী তথা পরিবেশবিদ সোনম ওয়াংচুক.
দিল্লির এই আন্দোলনে যোগ দিতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার, কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিন্নারাই বিজয়ন এবং দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের মতো হেভিওয়েট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা. এছাড়া একাধিক যুবনেতা, আইনজীবী, সাংবাদিক এবং সাংসদকেও আটক করেছে দিল্লি পুলিশ. এই ব্যাপক ধরপাকড়ের কড়া নিন্দা করে সোনম ওয়াংচুক পরিষ্কার ভাষায় জানিয়েছেন যে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি এই সমস্ত আটক নেতাদের সসম্মানে মুক্তি দেওয়া না হয়, তবে তিনি বাধ্য হয়ে ফের অহিংস পদযাত্রা কিংবা আমরণ অনশনের পথ বেছে নেবেন.
এক সোশ্যাল মিডিয়া বার্তায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে সোনম বলেন, “বিশ্বের সবথেকে বড় গণতন্ত্রে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করার সাংবিধানিক অধিকার সকলেরই রয়েছে। কিন্তু আজ যা ঘটছে, তাতে মনে হচ্ছে দেশে কোনো অঘোষিত আপদকাল বা এমার্জেন্সি চলছে।” তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে এবং আলোচনার মাধ্যমেই এই সংকটের দ্রুত সমাধান সূত্র বেরিয়ে আসবে, যাতে তাঁকে নতুন করে কোনো কঠোর আন্দোলনে নামতে না হয়.
অন্যদিকে, এই আকস্মিক আন্দোলন ও আটকের আবহের মধ্যেই এক মর্মান্তিক ব্যক্তিগত ধাক্কা এসেছে প্রতিবাদী আন্দোলনকারী অভিজিৎ দীপকের পরিবারে। পুলিশি আটকের মাঝেই তাঁর ৮৫ বছর বয়সি ঠাকুমা সাবিত্রীবাঈ দীপকের প্রয়াণের খবর এসে পৌঁছেছে. পুলিশ তাঁকে বিষয়টি জানালেও, এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে তিনি আটক থাকা অবস্থাতেই আন্দোলন চালিয়ে যাবেন নাকি শেষকৃত্যে যোগ দিতে বাড়ি ফিরবেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র মানসিক দ্বন্দ্ব. সবমিলিয়ে রাজধানীর রাজনৈতিক পারদ এখন চড়ছে চরম মাত্রায়।