“নিজের দেশের মানুষের সঙ্গেই যুদ্ধ করতে চান মোদী?” খোলা চ্যালেঞ্জ অভিজিৎ দীপকের

ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) বহুল আলোচিত ‘যন্তর মন্তর ২.০’ অভিযান ঘিরে আজ গোটা দেশের নজর আটকে রয়েছে দিল্লির দিকে। সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধস্তাধস্তি এবং দেড় শতাধিক বিক্ষোভকারী আটকের পর পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত। এই আবহে মুম্বই থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগেই কেন্দ্র সরকারকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।

মুম্বই বিমানবন্দর ছাড়ার সময় তাঁকে দিল্লি বিমানবন্দরে নামলেই গ্রেফতার করা হতে পারে কি না—এই প্রশ্ন করা হলে বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে দীপকে বলেন, “যদি ওরা আমাকে আটক বা গ্রেফতার করতে চায়, তো করুক। আমি সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমার কিচ্ছু যায় আসে না। ইউএপিএ (UAPA) বা এনএসএ (NSA) যা ইচ্ছে প্রয়োগ করুক! কিন্তু অবাধ নির্বাচন ও দেশের গণতন্ত্র বাঁচানোর লড়াই আমরা থামাব না।”

এদিন কেন্দ্রকে আক্রমণ করে বিস্ফোরক সব অভিযোগ তোলেন CJP প্রধান। তিনি বলেন, “আমার অবাক লাগছে, দেশের প্রধানমন্ত্রী দেশের যুবসমাজকে এত ভয় পান কেন? সব ট্রেন ও মেট্রো পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ার কী দরকার ছিল? ইন্টারনেট কানেকশন কেটে দেওয়া হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীর এবং নকশাল এলাকা থেকে সিআরপিএফ ও সেনা এনে দিল্লিতে মোতায়েন করা হয়েছে। নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহ কি তবে নিজেদের দেশের জনগণের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ ঘোষণা করতে চান?”

সংবিধানের ১৯ নম্বর ধারার কথা মনে করিয়ে দিয়ে দীপকের সংযোজন, “প্রধানমন্ত্রী বুঝতে পেরেছেন মানুষ আর তাঁকে ভোট দেবে না। তাই ক্ষমতা ধরে রাখতে ট্রেন থেকে লোক নামিয়ে নেওয়া হচ্ছে, বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু প্রতিবাদ করা আমাদের মৌলিক অধিকার, আর আমরা সেই অধিকার প্রয়োগ করেই ছাড়ব।”

যন্তর মন্তর অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। সব মিলিয়ে আজকের এই আন্দোলন দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক বিশাল বড় মোড় নিতে চলেছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।