“আপনাদের পরিকল্পনা সফল হবে না!” যন্তর মন্তরে ধুন্ধুমার কাণ্ডের মাঝেই হুঙ্কার ছাড়লেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) পূর্বঘোষিত যন্তর মন্তর অভিযানকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকেই চরম উত্তেজনার সাক্ষী থাকল জাতীয় রাজধানী। বিক্ষোভ প্রতিহত করতে ৯ তারিখ মধ্যরাত থেকেই দিল্লিকে কার্যত দুর্গে পরিণত করে প্রশাসন। বাতিল করা হয় একাধিক ট্রেন, বন্ধ রাখা হয় ৪৫টি মেট্রো স্টেশন। এমনকি, বেলা ১১টা নাগাদ দিল্লির মাটিতে পা রাখার আগেই বিমান থেকে নামিয়ে আটক করা হয় সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে। এই বিক্ষোভে সংহতি জানাতে এসে আটক হন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নও। পাশাপাশি, জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকেও গুরুগ্রামের বাসভবন থেকে গৃহবন্দি বা আটক করা হয়। বিরোধীদের এই বেনজির তান্ডব ও রাষ্ট্রপতি ভবনে স্মারকলিপি জমার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার চরম আক্রমণ শানালেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন।
শনিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে বিরোধীদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে নীতিন নবীন দাবি করেন, একের পর এক নির্বাচনে জনগণের কাছে চরমভাবে প্রত্যাখ্যাত হয়ে এবং গণতান্ত্রিক জনাদেশ পকেটে পুরতে ব্যর্থ হয়ে এখন দেশকে ইচ্ছাকৃতভাবে অস্থিতিশীল করার হীন চক্রান্ত চালাচ্ছে বিরোধীরা। সংবিধানকে ঢাল বানিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অশান্তি ও নৈরাজ্যের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। রাহুল গান্ধী ও বিরোধী নেতাদের সরাসরি নিশানা করে বিজেপি সভাপতি বলেন, “দেশের মানুষ যখন আপনাদের প্রত্যাখ্যান করেছে এবং গণতন্ত্র যখন আপনাদের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে, তখন সেই রায় মাথা পেতে নিয়ে তা থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরিবর্তে আপনারা দেশকে অস্থিতিশীল করার আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।” তাঁর আরও বিস্ফোরক অভিযোগ, এই সমস্ত কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে কিছু বিদেশি শক্তির ইন্ধন এবং ‘আরবান নকশাল’ মানসিকতায় পুষ্ট কিছু গোষ্ঠী, যারা ভারতের বর্তমান অগ্রগতির চাকাকে স্তব্ধ করতে চায়।
দেশের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর বার্তা দিয়ে নীতিন নবীন স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, শান্তিভঙ্গের যেকোনো অপচেষ্টা বরদাস্ত করবে না সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিগত এক দশকে দেশ থেকে সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রপন্থার শিকড় যেভাবে উৎপাটিত হয়েছে, তার ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, “দেশের ভিতরের বা বাইরের কোনো শক্তি যদি দেশকে অশান্ত করার দুঃসাহস দেখায়, তবে সরকার ও বিজেপি কর্মীরা তার দাঁতভাঙা জবাব দেবে।” CJP-র এই ‘গণতন্ত্র বাঁচানোর চূড়ান্ত ডাক’ এবং রাজধানীজুড়ে চলা পুলিশি ধরপাকড়কে কেন্দ্র করে বর্তমানে জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র রাজনৈতিক পারদ চড়েছে।