মহালয়ার পবিত্র ভোরে দেবী দুর্গার আগমনী সুর! সম্প্রীতি ও নতুন সংকল্পের বার্তা মোদী-মমতা-শুভেন্দুর

মহালয়ার পুণ্য প্রভাতে দেবীপক্ষের সূচনায় দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও প্রীতি জানিয়েছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই বিশেষ উপলক্ষে শুভেচ্ছা বার্তা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। পবিত্র এই দিনে দেশ তথা রাজ্যের প্রতিটি মানুষের জীবনে সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি, সম্প্রীতি ও ঐক্যের নতুন আলো ছড়িয়ে পড়ুক—এই প্রার্থনাই করেছেন শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

মহালয়ার শুভ লগ্নে মা দুর্গার আশীর্বাদ প্রার্থনা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর বার্তায় জানান, দেবীর কৃপায় সমগ্র সমাজ যেন সুখ, সহমর্মিতা এবং আশায় পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। চারপাশে যেন চিরন্তন শান্তি ও সমৃদ্ধি বিরাজ করে। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দেবীপক্ষের প্রারম্ভে সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, মা দুর্গার আগমনে সকলের জীবন যেন আনন্দ ও সমৃদ্ধিতে ভরে ওঠে। তিনি প্রার্থনা করেন, বাংলার ঐতিহ্য, অনন্য সংস্কৃতি, ঐক্য ও সৌভ্রাতৃত্বের বন্ধন যেন আরও সুদৃঢ় হয়। একইসঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর শুভেচ্ছাবার্তায় আশা প্রকাশ করেন যে, এই শুভ লগ্ন সকলের মধ্যে নতুন শক্তি, সামাজিক একতা এবং একটি উজ্জ্বল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ার দৃপ্ত সংকল্প জাগিয়ে তুলবে।

অন্য দিকে, মহালয়াকে ঘিরে এবার তিলোত্তমা কলকাতায় তৈরি হয়েছে এক অভূতপূর্ব উৎসবের আবহাওয়া। বিশেষ করে ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেন্সে আয়োজন করা হয়েছে এক বর্ণাঢ্য মেগা ইভেন্টের। গান-বাজনা ও বাংলার সমৃদ্ধ লোকসংস্কৃতির মেলবন্ধনে সাজিয়ে তোলা হয়েছে এই বিশেষ অনুষ্ঠান। এবারের উদযাপনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হতে চলেছে এক চোখধাঁধানো ড্রোন শো, যেখানে প্রায় তিন হাজার আলোর ড্রোনের সাহায্যে আকাশের ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলা হবে মা দুর্গার আগমনের নান্দনিক ছবি।

শুধু ড্রোন শো নয়, বাংলার বৈচিত্র্যময় লোকসংস্কৃতিকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে নেওয়া হয়েছে অভূতপূর্ব উদ্যোগ। দার্জিলিং থেকে পুরুলিয়া—রাজ্যের ২৩টি জেলার ২৩টি নিজস্ব লোকনৃত্য এই মঞ্চে পরিবেশিত হবে। এতে থাকবে বিখ্যাত ছৌ নৃত্য, বাউল ও ভাওয়াইয়ার সুর। গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম তোলার ঐতিহাসিক লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত হচ্ছে ১০ হাজার ঢাকের যুগপৎ বাদ্যি এবং এক হাজার নারীর সমবেত উলুধ্বনি ও শঙ্খধ্বনি। এই মেগা মঞ্চে পুজোর সুর ছড়িয়ে দেবেন লগ্নজিতা ও শ্রেয়া ঘোষালের মতো বিশিষ্ট শিল্পীরা। পাশাপাশি মহালয়ার সকালে কলকাতার বাবুঘাট, আহিরীটোলা, জাজেস ঘাট, নিমতলা ও বাজে কদমতলা ঘাটে মাইকে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ এবং বিশাল বড় রেডিওর প্রতিকৃতি বসিয়ে ঐতিহ্যবাহী আবহ ফিরিয়ে আনার বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে।