সমাজ সংস্কারক গোবিন্দ দাসের জন্মবার্ষিকীতে উত্তাল ওড়িশা! রাজ্যজুড়ে শ্রদ্ধার্ঘ্য ও আবেগঘন স্মরণ

প্রখ্যাত সমাজ সংস্কারক, দূরদর্শী কবি এবং ‘উৎকলমণি’ নামে খ্যাত পন্ডিত গোপবন্ধু দাসের ১৪৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার সমগ্র ওড়িশা জুড়ে এক ভাবগম্ভীর ও শ্রদ্ধাভরা পরিবেশের সৃষ্টি হয়। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজনৈতিক দলগুলির শীর্ষনেতৃত্ব ও সাধারণ মানুষ এই মহান নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বিশেষ করে বিধানসভা প্রাঙ্গণে আয়োজিত প্রধান স্মারক অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল হরি বাবু কম্ভমপতি, বিধানসভার স্পিকার সুরমা পাঢ়ী, মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি, উপমুখ্যমন্ত্রী কে.ভি. সিং দেও এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি মনমোহন সামলসহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব পন্ডিত গোপবন্ধু দাসের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে তাঁকে স্মরণ করেন।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বাণীতে বলেন, “একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী, সমাজ সংস্কারক ও নিঃস্বার্থ জনসেবার মূর্ত প্রতীক ‘উৎকলমণি’ পন্ডিত গোপবন্ধু দাসের জন্মবার্ষিকীতে জানাই আমার বিনম্র শ্রদ্ধা। স্বাধীন ওড়িশা প্রদেশ গঠনে তাঁর অবদান এবং জনকল্যাণে তাঁর আজীবন আত্মত্যাগ আগামী প্রজন্মকে চিরকাল অনুপ্রাণিত করবে।” অন্যদিকে, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তথা বিজু জনতা দল (বিজেডি)-এর সভাপতি নবীন প্যাটেল বলেন, “সেবা ও ত্যাগের প্রতীক পন্ডিত গোপবন্ধু দাসের আদর্শ আমাদের পথ দেখায়। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে বেগবান করার পাশাপাশি সাংবাদিকতা ও ওড়িয়া সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করতে তাঁর অসামান্য অবদান অমূল্য।” কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি ভক্ত চরণ দাস ভুবনেশ্বরের গোপবন্ধু চত্বরে গিয়ে তাঁর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন এবং শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর অসামান্য অবদানের কথা সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করেন। উল্লেখ্য, ১৮৭৭ সালের ৯ অক্টোবর পুরী জেলায় জন্ম নেওয়া এই ক্ষণজন্মা পুরুষকে ওড়িশার মানুষের নিঃস্বার্থ সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট বাঙালি রসায়নবিদ ও শিক্ষাবিদ প্রফুল চন্দ্র রায় ‘উৎকলমণি’ বা ‘ওড়িশার রত্ন’ উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন। ১৯২০ থেকে ১৯২৮ সাল পর্যন্ত তিনি ওড়িশা প্রদেশ কংগ্রেসের প্রথম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯২৮ সালের ১৭ জুলাই তাঁর জীবনাবসান ঘটে।