৯৯ দিনে ৯৯ অসুর বধ! কীভাবে শুরু হয়েছিল মহিষাসুর বধের সেই মহা-ইতিহাস?

শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভ সূচনা হতে চলেছে আগামী ১১ অক্টোবর থেকে, যার ঠিক একদিন আগে অর্থাৎ ১০ অক্টোবর উদযাপিত হবে মহালয়া। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মহালয়ার পবিত্র তিথিতেই মা দুর্গার মর্ত্যলোকে আগমন ঘটেছিল। এরপরেই দেবীর সঙ্গে টানা নয় দিন ধরে চলা এক রক্তক্ষয়ী ও ভীষণ যুদ্ধে অসুররাজ মহিষাসুরের পতন ঘটেছিল। পৌরাণিক দলিলাদি ও শাস্ত্রীয় কাহিনী অনুসারে, এই ভয়ঙ্কর অসুর রম্বা এবং এক মহিষীর মিলনের ফলে জন্ম নিয়েছিল, যার কারণে তার শরীর ছিল অর্ধেক মানুষ ও অর্ধেক মহিষের আকৃতির। সৃষ্টি কর্তা ব্রহ্মার একনিষ্ঠ ভক্ত হওয়ায় মহিষাসুর বর পেয়েছিল যে কোনো দেবতা বা দানব তাকে কখনোই যুদ্ধে পরাজিত করতে পারবে না।

নিজের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে মহিষাসুর ধীরে ধীরে স্বর্গলোকের দেবকুলকে চরম আতঙ্কিত করে তোলে এবং একপর্যায়ে দেবরাজ ইন্দ্রকে পরাস্ত করে স্বর্গের সিংহাসন দখল করে নেয়। উপায়ান্তর না দেখে দেবতারা ত্রিমূর্তি ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের শরণাপন্ন হন। সমস্ত দেবতারা একত্রিত হয়ে মহাশক্তিধর মহিষাসুরের বিরুদ্ধে প্রবল যুদ্ধ ঘোষণা করলেও প্রতিবারই পরাজিত হন। কোনো বিকল্প পথ খোলা না থাকায় দেবতারা সম্মিলিতভাবে আদিশক্তি মা দুর্গার আবাহন করেন। শিবের ত্রিশূল, বিষ্ণুর চক্র, হিমালয়ের সিংহ এবং বায়ুর ধনুক-বাণে সুসজ্জিত দেবী দুর্গার সেই রৌদ্ররূপ ও তেজোময় প্রকাশ দেখে ভয়ে কেঁপে উঠেছিল অসুরকুল।

মা দুর্গা মায়াবী মহিষাসুরের বিরুদ্ধে একটানা নয় দিন ধরে এক অবিশ্বাস্য ও রোমহর্ষক যুদ্ধ পরিচালনা করেন। এই দীর্ঘ সংঘাতে মহিষাসুর বারবার তার রূপ বদল করে কখনো মহিষ, কখনো সিংহ, কখনো হাতি এবং কখনো মানব রূপ ধারণ করে দেবীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালায়। যুদ্ধের ঠিক দশম দিনে মা দুর্গা তার চরণতলে মহিষাসুরকে আষ্টেপৃষ্ঠে চেপে ধরে ত্রিশূলের আঘাতে তার জীবনপ্রদীপ নিভিয়ে দেন। একেবারে অন্তিম মুহূর্তেও সে মানুষ রূপ ধারণের চেষ্টা চালালেও দেবী তাকে সম্পূর্ণ সুযোগ না দিয়ে বধ করেন। অসুরের ওপর ধর্মের এই পরম বিজয়ের স্মরণেই আজ পালিত হয় বিজয়াদশমী। এই পুরো পৌরাণিক কাহিনী আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মানুষের অন্ধ অহংকার ও সীমাহীন লালসাই তার চূড়ান্ত পতনের একমাত্র কারণ।