‘হিন্দু দোকান থেকেই বিরিয়ানি কিনুন!’ পুজোর মুখে শিলিগুড়ির রাস্তায় বিতর্কিত পোস্টার ঘিরে তুমুল উত্তেজনা

শারদোৎসবের আনন্দে মাতোয়ারা হওয়ার মুখে উত্তরবঙ্গের প্রাণকেন্দ্র শিলিগুড়িতে খাবারের দোকান ও ব্যবসাকে কেন্দ্র করে চরম বিতর্কিত পোস্টার পড়ায় তীব্র চাঞ্চল্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। শহরের একাধিক জনবহুল এলাকায় ‘হিন্দু মালিকানাধীন দোকান থেকেই বিরিয়ানি কিনুন’ লেখা পোস্টার সাঁটানোকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে জোর শোরগোল শুরু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হিলকার্ট রোড, সেবক রোড এবং বিধান মার্কেট সংলগ্ন একাধিক ব্যস্ত মোড়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের নামে এই পোস্টার ও ফ্লেক্সগুলি রাতারাতি টাঙিয়ে দেওয়া হয়। পোস্টারে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে সাধারণ মানুষকে শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের দোকান থেকেই মাংস ও বিরিয়ানি কেনার আহ্বান জানানো হয়। উৎসবের প্রাক্কালে ভোজনরসিক বাঙালির প্রিয় খাবারে এমন ধর্মীয় বিভাজন টানার চেষ্টায় সাধারণ নাগরিক ও স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়।

বিষয়টি নজরে আসতেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করতে তৎক্ষণাৎ মাঠে নামে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশ। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিতর্কিত সমস্ত পোস্টার ও ফ্লেক্স ছিঁড়ে ফেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ বাহিনী। এলাকার সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখে কারা এই ধরনের উস্কানিমূলক পোস্টার লাগিয়েছে, তাদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে। পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে, উৎসবের মরশুমে সম্প্রীতি নষ্ট করার যে কোনও চেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে।

একনজরে বিতর্কের মূল দিকগুলি:

  • উস্কানিমূলক পোস্টার: পুজোর মুখে নির্দিষ্ট ধর্মের দোকান থেকে বিরিয়ানি কেনার আহ্বান জানিয়ে শিলিগুড়িজুড়ে ফ্লেক্স।

  • তীব্র জনরোষ: খাদ্যসংস্কৃতিতে ধর্মীয় বিভাজনের চেষ্টা ও ব্যবসায়ীদের রুটিরুজিতে আঘাতের বিরুদ্ধে সরব নাগরিক সমাজ।

  • প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ: শহরের বিভিন্ন অংশ থেকে অবিলম্বে সমস্ত পোস্টার অপসারণ এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দুষ্কৃতীদের খোঁজে পুলিশের তল্লাশি শুরু।

উৎসবের আনন্দ ও উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পরিকল্পিতভাবে এই ধরনের ঘৃণামূলক প্রচার চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে শান্তি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার বার্তা দিয়েছে বিভিন্ন সামাজিক ও বাণিজ্যিক সংগঠন।