‘জল আর রক্ত একসঙ্গে বইতে পারে না!’ সিন্ধু চুক্তি স্থগিত রাখতেই পাকিস্তানের ঘরে ত্রাহি ত্রাহি রব!

পাকিস্তানের সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ সালের আসন্ন খরিফ মরশুমে সিন্ধু অববাহিকায় জলের প্রবাহে ২২ শতাংশ পর্যন্ত বিরাট ঘাটতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের এপ্রিলে পহেলগাঁও-তে ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদী হামলার পর থেকেই ঐতিহাসিক ‘সিন্ধু জল চুক্তি’ স্থগিত রেখেছে ভারত। তারপর থেকেই জল সংকটের কালো মেঘে ঢাকা পড়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, সামগ্রিক ব্যবস্থায় পাঞ্জাব ও সিন্ধু—উভয় প্রদেশের ক্ষেত্রেই জলের ঘাটতির পরিমাণ ২২ শতাংশ হতে পারে। এমনকি চলতি বছরের খরিফ মরশুমেও পাকিস্তানকে এই একই পরিমাণের জল ঘাটতির মোকাবিলা করতে হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মঞ্চে সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিতের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরে ভারতের বিরুদ্ধে “জল যুদ্ধ”-এর অভিযোগ তুলেছে পাকিস্তান। তবে নরেন্দ্র মোদির সরকার নিজেদের অবস্থানে অনড় থেকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, “জল ও রক্ত একসঙ্গে বইতে পারে না” এবং পাকিস্তানকে সবার আগে সীমান্তবর্তী সন্ত্রাসবাদের মদত পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।

২০২৫ সালের এপ্রিলে পহেলগাঁও হামলার জেরে ভারত সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করায় গত বছরও সেচ সংকটের তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল পাকিস্তান। সে সময় সরকারি নথিপত্রে ২১ শতাংশ পর্যন্ত জল ঘাটতির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত হিমালয়ের উচ্চতর অঞ্চলে বন্যা এবং অতিরিক্ত বরফ গলার ফলে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে পাক নথিপত্রে জলাধারের জলের স্তর ক্রমাগত কমে যাওয়া, নদীর প্রবাহে অনিশ্চয়তা এবং বিশেষ করে ঝিলাম ও চন্দ্রভাগা (চেনাব) নদীতে জলের প্রবাহ হ্রাস পাওয়ার কারণে গভীর উদ্বেগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পাক আধিকারিকরা বারবার অভিযোগ করেছেন যে চন্দ্রভাগা নদীতে ভারতের কম জল সরবরাহের ফলেই এই সংকটের সৃষ্টি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, পাকিস্তানের সেচ-নির্ভর কৃষিকাজের সিংহভাগই সম্পন্ন হয় পাঞ্জাব ও সিন্ধু প্রদেশে। দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ কৃষি উৎপাদন সম্পূর্ণরূপে সিন্ধু অববাহিকার সেচ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। ফলে জলের প্রবাহে সামান্য পরিবর্তনও দেশের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। নথিপত্র থেকে স্পষ্ট যে, পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ একটি চরম কঠিন মরশুমের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং পশ্চিম প্রান্তের নদীগুলির প্রবাহ কমে যাওয়ায় তাদের উদ্বেগ দিন দিন বেড়েই চলেছে।