পুজোর আনন্দ মাটি হবে বৃষ্টিতে? পঞ্চমীতেই বড় আপডেট দিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর!

শরতের সোনাঝরা রোদ্দুর আর হেমন্তের আমেজে কাটবে এবারের দুর্গোৎসব। তবে উৎসবের আমেজে কিছুটা জল ঢালতে পারে উপকূলের নিম্নচাপ। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, পুজোর প্রথমভাগে শরতের আবহাওয়া এবং দ্বিতীয় ভাগে হেমন্তের ছোঁয়া মিলবে। মাঝেমধ্যে উপকূলবর্তী অঞ্চলে হালকা বৃষ্টির সামান্য সম্ভাবনা থাকলেও সার্বিকভাবে পুজোর আনন্দে তার বিশেষ প্রভাব পড়বে না।

দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণাবর্ত ঘনীভূত হয়ে আন্দামান সাগরে নিম্নচাপে রূপ নেওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এই নিম্নচাপের অভিমুখ অন্ধ্রপ্রদেশের দিকে, তবুও এর পরোক্ষ প্রভাবে বাংলার আবহাওয়া বদলাতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে রাজ্য থেকে বর্ষা বিদায়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে দেশের বাকি অংশ থেকেও দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু পুরোপুরি বিদায় নেবে।

দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া নিয়ে পূর্বাভাস বলছে, মঙ্গলবার ও বুধবার বেশিরভাগ জেলায় আবহাওয়া মূলত শুষ্ক ও পরিষ্কার থাকবে। তবে বুধবার সন্ধ্যার পর থেকেই আবহাওয়ায় পরিবর্তন আসতে পারে। বৃহস্পতিবার অর্থাৎ পঞ্চমী থেকে শনিবার প্রথম সপ্তমী পর্যন্ত কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম জেলায় আকাশ মেঘলা থাকার পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। রবিবার সপ্তমীর দ্বিতীয় দিন থেকে ফের আবহাওয়া শুষ্ক ও পরিষ্কার হবে এবং পশ্চিমের জেলাগুলিতে অষ্টমী থেকেই হালকা ঠান্ডার আমেজ বা হেমন্তের আবহাওয়া অনুভূত হতে শুরু করবে।

অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের আবহাওয়ায় পুজোর কদিন বড় কোনো বৃষ্টির পূর্বাভাস নেই। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারের মতো ওপরের দুই-এক জেলায় শুক্রবার ষষ্ঠী ও শনিবার সপ্তমীর দিন বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টির সামান্য সম্ভাবনা ছাড়া গোটা উত্তরবঙ্গেই পরিষ্কার আকাশ ও শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকবে। সকাল ও সন্ধ্যায় মনোরম আবহাওয়ায় কাটবে উত্তরবঙ্গের পুজো।

কলকাতার ক্ষেত্রেও দিনের বেলা কিছুটা জলীয় বাষ্পজনিত অস্বস্তি থাকলেও বুধবার রাত থেকে আবহাওয়ায় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতি ও শুক্রবার বৃষ্টির সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। তবে রোদ-বৃষ্টির এই লুকোচুরি খেলেও পুজো জমজমাট থাকবে বলেই মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।