নন্দীগ্রামে উলটপুরাণ! মমতার ‘জুজু’ কাটিয়ে এক লাফে বিজেপিতে ভরসা রাখলেন সংখ্যালঘুরা?

বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণে এক ঐতিহাসিক ও চাঞ্চল্যকর পটপরিবর্তন! এতদিন ধরে সংখ্যালঘুরা তৃণমূল কংগ্রেসের একচ্ছত্র ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত থাকলেও, সাম্প্রতিক উপনির্বাচনের ফলাফল এবং ট্রেন্ড সেই চিরন্তন ধারণাকে একেবারে উল্টে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের চোখ কপালে তুলে দিয়ে রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকে এক বিরাট ভাঙন দেখা গেছে। খোদ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে নন্দীগ্রামসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু এলাকাগুলিতে এবার গেরুয়া শিবিরের ওপরেই গভীর আস্থা রেখেছেন সংখ্যালঘু ভোটাররা। উপনির্বাচনের আগে নন্দীগ্রামের মাটি থেকে শুভেন্দু অধিকারী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের পক্ষ নেওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, “এটাই সংখ্যালঘু ভোটারদের জন্য একটি সুবর্ণ সুযোগ এবং তাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উন্নয়নের মূল ধারায় সামিল হতে হবে।” তাঁর সেই বার্তার পরেই সংখ্যালঘু সমাজ হাতছাড়া করেনি সেই সুযোগ।
ভোটের বুথভিত্তিক পরিসংখ্যান ও মাঠপর্যায়ের ফলাফল সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গেছে। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বুধগুলিতে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে তা কল্পনাও করা যায় না। যেখানে কংগ্রেস প্রার্থীরা বুথ প্রতি ৭০ থেকে ১০০টি পর্যন্ত ভোট সংগ্রহ করেছে, সেখানে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস এবং গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের ঝুলিতে এসেছে মাত্র ৮ থেকে ১০টি করে ভোট। বিশেষ করে ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’-এর করুণ দশা নজিরবিহীন, বহু বুথেই তাদের ভোট সংখ্যা নেমে ঠেকেছে মাত্র ২ থেকে ৩টিতে।
নন্দীগ্রামের এক সংখ্যালঘু নারী সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “আর বিরোধী বলে লাফালাফি করে লাভ নেই! কংগ্রেস বলে তো আর কিছু অবশিষ্ট থাকবে না, আর তৃণমূল বলে তো এখন জিরো। আমরা ‘দাদা’ (শুভেন্দু অধিকারী)-র কথাতেই ভরসা রেখেছি।” তাঁর আরও সংযোজন, এতদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংখ্যালঘুদের শুধুমাত্র ‘জুজু’ দেখিয়ে ভয় পাইয়ে নিজেদের ভোটব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করে এসেছিলেন, কিন্তু এখন সাধারণ মানুষ সেই প্রতারণা ও ঠগ-বেইমানি পরিষ্কার বুঝে গেছে। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন থেকেই এই নতুন রাজনৈতিক প্রবণতার ইঙ্গিত মিলেছিল, যেখানে মালদহ ও মুর্শিদাবাদের মতো ঐতিহ্যবাহী দুর্গে তৃণমূলের ভোটব্যাংকে বড়সড় থাবা বসিয়েছিল বিজেপি। আর সদ্য সমাপ্ত নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনে সেই ট্রেন্ড আরও পোক্ত হয়ে ধরা পড়ল। বাংলার এই পরিবর্তিত রাজনৈতিক সমীকরণ আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।