‘দরদর করে ঘামছিলেন, ধীরে ধীরে হারাচ্ছিলেন..?’-নানা পাটেকারের শেষ মুহূর্তের চাঞ্চল্যকর তথ্য

ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের এক অধ্যায়ের অবসান। প্রয়াত হলেন চার দশকেরও বেশি সময় ধরে দর্শক হৃদয়ে রাজত্ব করা বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর। গত বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ভোররাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর জীবনাবসান হয়। গোয়ার মণিপাল হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের প্রধান চিকিৎসক শেখর সালকারের বয়ান অনুযায়ী, মৃত্যুর আগের মুহূর্তগুলিতে অভিনেতার বাড়িতে ঠিক কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তার এক মর্মান্তিক বিবরণ সামনে এসেছে।

শেষ রাতের সেই নাটকীয় মুহূর্ত: চিকিৎসক সালকারের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটে নাগাদ নিজের শারীরিক অবস্থার অবনতি টের পান নানা পাটেকর। তিনি তাঁর এক বন্ধুকে একটি মেসেজ করে জানান যে তিনি ভালো বোধ করছেন না। কিন্তু গভীর রাত হওয়ায় বন্ধু সেই মেসেজ দেখতে পাননি। পরে ঘুম ভেঙে ফোন করতেই তিনি তড়িঘড়ি ভোর ৪টা নাগাদ অভিনেতার গোয়ার বাড়িতে গিয়ে পৌঁছন।

বাড়ি পৌঁছে বন্ধু দেখেন, নানা পাটেকর তীব্রভাবে ঘামছেন এবং ধীরে ধীরে জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দ্রুত কেয়ারটেকারকে অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করতে বলা হয় এবং জরুরি চিকিৎসকদের খবর দেওয়া হয়। চিকিৎসকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অভিনেতার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে এবং তিনি সাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেন। বাড়িতেই শুরু হয় সিপিআর (CPR) বা কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন।

প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে বাঁচানোর লড়াই: ভোর ৪টা ২০ মিনিট নাগাদ নানা পাটেকরকে গোয়ার মণিপাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও চিকিৎসকরা হাল ছাড়েননি। একটানা প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে কার্ডিয়াক ম্যাসাজ ও সিপিআর চালিয়ে তাঁকে বাঁচানোর প্রাণপণ চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে ভোর ৫টা ২০ মিনিট নাগাদ তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

যেহেতু নানা পাটেকর ওই হাসপাতালের নিয়মিত রোগী ছিলেন না, তাই ঘটনাটিকে মেডিকো-লিগ্যাল কেস হিসেবে বিবেচনা করে পুলিশকে জানানো হয়। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য তাঁর মৃতদেহ গোয়া মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণরূপে স্পষ্ট হবে। তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা বলিউড তথা ভারতীয় বিনোদন জগতে।