আর্থিক তছরুপ ও মানি লন্ডারিংয়ের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ! ইডি-র রিপোর্টের ভিত্তিতে বড় বিপাকে কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী

কেরল রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক ও চাঞ্চল্যকর মোড়। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান বাম নেতা পিনারাই বিজয়নের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার অনুমতি দিল কেরল হাইকোর্ট। শুধু বিজয়ন একা নন, তাঁর কন্যা বীণা টি এবং জামাই তথা সিপিআইএম নেতা পিএ মহম্মদ রিয়াসের বিরুদ্ধেও এই আইনি পদক্ষেপের অনুমোদন দিয়েছে আদালত। খনি দুর্নীতি মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র পেশ করা রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি এ বাহারুদ্দিন।

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড (সিএমআরএল) নামক একটি খনি সংস্থা। ইডি-র দাবি, ওই সংস্থার আর্থিক লেনদেনে বড় ধরণের জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে। প্রযুক্তিগত পরামর্শ দেওয়ার নাম করে বীণার বন্ধ হয়ে যাওয়া সংস্থা ‘এক্সালজিক সলিউশনস’-কে বেআইনিভাবে ২.৭৮ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছিল। এই আর্থিক দুর্নীতি মামলার তদন্তেই গত জুন মাসে তিরুঅনন্তপুরমে বীণার ভাড়াবাড়িতে অভিযান চালায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। দীর্ঘক্ষণ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরবর্তীতে ইডি দাবি করে, বীণার সম্পত্তি থেকে একটি হাতে লেখা নোট উদ্ধার হয়েছে, যেখানে দুবাইয়ে টাকা পাচারের স্পষ্ট তথ্য ও প্রমাণ রয়েছে।

যদিও এই সমস্ত অভিযোগ শুরু থেকেই তীব্রভাবে অস্বীকার করে আসছেন পিনারাই বিজয়নের পরিবার। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলে জামাই পিএ মহম্মদ রিয়াস দাবি করেছিলেন যে, তাঁদের কালিম্পিপ্ত করতেই ভিত্তিহীন ও মিথ্যে অভিযোগ সাজানো হচ্ছে। বীণা অপরাধ কবুল করে নিয়েছেন বলে যে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল, তাও জোরালোভাবে খণ্ডন করেন তিনি। রিয়াস স্পষ্ট ভাষায় জানান, ইডি তদন্তের নামে অদ্ভুত এবং কাল্পনিক দাবি পেশ করছে। আইনি পথেই এই ষড়যন্ত্রের উপযুক্ত মোকাবিলা করা হবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

আইনজীবী কে এম শাহজাহান কেরল হাইকোর্টে একটি পিটিশন দাখিল করে ইডি-র জমা দেওয়া রিপোর্টকে ভিত্তি করে পুলিশের মাধ্যমে এফআইআর দায়েরের আর্জি জানিয়েছিলেন। আদালতের শুনানিতে ইডি জানায় যে, বিজয়ন, তাঁর কন্যা এবং জামাইয়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা এই রিপোর্টটিকে একটি প্রাথমিক তদন্তের রিপোর্ট হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে। আদালতের এই রায়ের পর রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক ময়দানেও এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, যা আগামী দিনে বাম শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে।