‘সবটাই আগে থেকে সেটিং করা!’-রেজিনগরে গেরুয়া ঝড়, হিতাহিত জ্ঞানশূন্য বিরোধীরা

উপনির্বাচনের ভোটগণনা এগোতেই এক অভাবনীয় রাজনৈতিক চমক দেখল রাজ্যবাসী। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে ইতিহাস গড়ার পথে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। প্রাথমিক ট্রেন্ড অনুযায়ী, ৩০ হাজারের বেশি ভোটে বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার। আর এই অভাবনীয় ফলাফলের সামনে আসতেই কড়া ভাষায় কারচুপির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে বিরোধী শিবির।
‘ইভিএম সেট করা আছে’, তোপ কংগ্রেস ও তৃণমূল প্রার্থীর: ভোটগণনার এই ছবি সামনে আসতেই তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন রেজিনগর উপনির্বাচনের কংগ্রেস প্রার্থী মহম্মদ আবদুল্লাহি কাফি। তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ, “কাউন্টিং একবারে সেট করা আছে। প্রত্যেকটা ইভিএম খুললেই একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে ভোটে রিগিং করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন ও এসপি-র মদতেই এই কারচুপি চলছে।” একই সুর শোনা গিয়েছে ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী সফিউজ্জামান শেখের গলাতেও। তাঁর দাবি, “আজ আর নতুন করে অভিযোগ করার কিছু নেই, মানুষের কাছে সবটা জলের মতো পরিষ্কার।”
পালটা মুখ খুললেন বিজেপি প্রার্থী শাখারভ: বিরোধীদের এই কারচুপি ও রিগিংয়ের দাবি পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার। তাঁর সাফ কথা, “সংখ্যালঘু আর সংখ্যাগুরু বলে বিভাজনের রাজনীতি করে মানুষ ক্লান্ত। বাংলার মানুষ এখন উন্নয়ন, কলেজ ও শিল্পের পক্ষে। সংখ্যালঘুরা অত্যন্ত বুদ্ধিমান বলেই নিজেদের উন্নয়নের স্বার্থে হৈ হৈ করে বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন।”
মাত্র পাঁচ মাস আগে যে কেন্দ্রে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর জয়ী হয়েছিলেন, সেই মুসলিম অধ্যুষিত রেজিনগরে বিজেপির এমন বিপুল লিড এবং তার জেরে রাজনৈতিক মহলে তৈরি হওয়া এই তীব্র চাপানউতোর এখন গোটা রাজ্যের প্রধান চর্চার কেন্দ্রবিন্দু।