দিল্লি যাওয়ার টিকিট কেটেছেন? ট্রেন ধরার আগে এই ভুল করলে চরম বিপদে পড়বেন!

দিল্লি যাওয়ার জন্য কি ট্রেনের টিকিট বুক করে রেখেছেন? যদি উত্তর হ্যাঁ হয়, তবে ঘর থেকে রওনা দেওয়ার আগে অবশ্যই আপনার মোবাইল ফোনটি একবার ভালো করে চেক করে নিন। কারণ, আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লিতে হতে চলা এক বিশাল রাজনৈতিক বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের জেরে রেল কর্তৃপক্ষ এক অত্যন্ত কড়া ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নিউ দিল্লি এবং হযরত নিজামুদ্দিন রেল স্টেশনে আসার কথা রয়েছে এমন বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন সম্পূর্ণ বাতিল করার ঘোষণা করেছে ভারতীয় রেল। সম্ভাব্য তীব্র যানজট এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সরাসরি প্রভাবিত করতে চলেছে বিহার ও উত্তর প্রদেশ সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দিল্লিগামী হাজার হাজার যাত্রীকে।

রেল সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের সতর্ক করতে ইতিমধ্যেই রেলের পক্ষ থেকে মোবাইল ফোনে গণবার্তা বা মাস এসএমএস (Mass SMS) পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে। যাঁদের ট্রেন বাতিল করা হচ্ছে, তাঁদের প্রত্যেকের রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে এই বার্তা পৌঁছে যাচ্ছে। তবে রেলের সতর্কবার্তা বলছে, যদি আপনার মোবাইলে কোনো মেসেজ না এসে থাকে, তবুও নিশ্চিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। ৯ অক্টোবর দুপুর ২টোর পর উৎস স্টেশন থেকে ছেড়ে যে সমস্ত ট্রেন ১০ অক্টোবর ভোর ৪টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে নতুন দিল্লি বা হযরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছানোর কথা ছিল, তার একটি বড় অংশ এই নির্দেশের আওতায় বাতিল করা হয়েছে। প্রতিদিন এই দুই স্টেশনে প্রায় ৭৫ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন, এবং এই ১০ ঘণ্টার লকডাউন সদৃশ পরিস্থিতিতে সমগ্র রেল পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে চলেছে।

বিশেষ করে পাটনা থেকে দিল্লিগামী রাজধানী এক্সপ্রেস, সম্পূর্ণ ক্রান্তি এক্সপ্রেস এবং মগধ এক্সপ্রেসের মতো হাই-প্রোফাইল ট্রেনগুলির ক্ষেত্রে যাত্রীদের চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট নির্দেশ, বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে অবশ্যই এনটিইএস (NTES) অ্যাপ অথবা রেলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ট্রেনের লাইভ স্ট্যাটাস ও রানিং টাইম যাচাই করে নিন। প্রয়োজনে রেলের হেল্পলাইন নম্বর ১৩৯-এ ডায়াল করেও সঠিক তথ্য জেনে নিতে পারেন। প্রতিবাদের জেরে আকস্মিক এই ট্রেন বাতিলের ফলে সাধারণ মানুষের যে ব্যাপক ভোগান্তি হতে চলেছে, তা সামাল দিতেই রেল প্রশাসনের এই জরুরি পদক্ষেপ।