মাত্র ১ জন শিক্ষকের ভরসায় ৮ হাজার শিশু! গুজরাটের শিক্ষাব্যবস্থায় চরম অব্যবস্থার অভিযোগে তোলপাড়!

গুজরাটের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার অন্দরে ২,০০০-এরও বেশি এক-শিক্ষক স্কুলকে কেন্দ্র করে এক নজিরবিহীন প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের সাম্প্রতিক ইউডিআইএসই+ (UDISE+) ২০২৫-২৬ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজ্যের ২,৩৩৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাত্র একজন শিক্ষক দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, যাঁদের কাঁধে ভর করে রয়েছে ৮০,০৫৩ জন কোমলমতি শিশুর ভবিষ্যৎ। এই ভয়াবহ ত্রুটি সামনে আসার পরই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে “প্রশাসনিক ব্যর্থতা, অলসতা এবং কর্তব্যে অবহেলার” সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সমস্ত জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (DPEO) এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের (AO) বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর কঠোর নোটিশ জারি করা হয়েছে।

তবে এই নোটিশের পরই রাজ্যের শিক্ষা মহলে শুরু হয়েছে তীব্র শোরগোল। কারণ দর্শানোর জবাবে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা তাঁদের চরম অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক উপ-শিক্ষা কর্মকর্তা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, জেলা স্তরের কর্মকর্তাদের আন্তঃজেলা বা অভ্যন্তরীণভাবে শিক্ষক বদলি করার কোনো আইনি বা প্রশাসনিক একচ্ছত্র ক্ষমতা নেই। এই সমস্ত নীতিগত সিদ্ধান্ত সরাসরি রাজ্য সরকার বা উচ্চপর্যায়ের নীতি নির্ধারকদের হাতে ন্যস্ত। কর্মকর্তাদের সাফ কথা, যখন শিক্ষক নিয়োগ বা বদলির কোনো আইনি ক্ষমতাই তাঁদের হাতে নেই, তখন তারা নিজ নিজ এখতিয়ারভুক্ত স্কুলগুলিতে শিক্ষকের এই প্রকট ঘাটতি কীভাবে মেটাবেন? ফলস্বরূপ, সরকারের তরফ থেকে দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশের যৌক্তিকতা নিয়ে এখন জোরদার বিতর্ক শুরু হয়েছে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে আসরে নেমেছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক প্রকাশ ত্রিবেদী। তিনি গোটা বিষয়টি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, ডিপিইও এবং এও-রা ইতিমধ্যে তাদের লিখিত জবাব ও ব্যাখ্যা জমা দিয়েছেন। বর্তমানে কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরাসরি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলেও, যেসব এলাকায় শূন্য শিক্ষক বা এক-শিক্ষকের সমস্যা রয়েছে, সেখানে তড়িঘড়ি অস্থায়ী বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের চলমান নতুন শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খুব শীঘ্রই এই স্কুলগুলিতে স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগের কাজ সম্পূর্ণ করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি। পাশাপাশি, যে সমস্ত স্কুলে একজনও শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি, সেই শূন্য-ছাত্র স্কুলগুলি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার সরকারি নির্দেশ কার্যকর করার প্রক্রিয়াও জোরকদমে চলছে।