“আমি ভাবতাম ফিল্মফেয়ার কেনা যায়!” প্রথম পুরস্কার হাতেই কেন এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন নানা পাটেকর?

বলিউডের অন্যতম প্রবীণ ও প্রতিভাবান অভিনেতা নানা পাটেকরের প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে চলচ্চিত্র জগতে। ২০২৬ সালের ৮ই অক্টোবর গোয়ার ডোনা পাওলার নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তি অভিনেতা। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে অসংখ্য স্মরণীয় চরিত্রে অভিনয় করে তিনি যেমন মানুষের মন জয় করেছিলেন, তেমনই জাতীয় পুরস্কার ও ফিল্মফেয়ারের মতো বহু মর্যাদাপূর্ণ সম্মানও অর্জন করেছিলেন। অসাধারণ অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের স্পষ্টভাষী ও নির্দ্বিধ স্বভাবের জন্য বরাবরই পরিচিত ছিলেন নানা। তাঁর এই স্বভাবেরই এক অনন্য নিদর্শন দেখা গিয়েছিল ১৯৯৫ সালে তাঁর প্রথম ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা পুরস্কার অর্জনের সময়।

দিলীপ কুমারের সামনেই যা বলেছিলেন নানা ১৯৯০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পরিন্দা’ ছবির জন্য শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে প্রথম ফিল্মফেয়ার পেয়েছিলেন নানা পাটেকর। এরপর ১৯৯৫ সালে ফিল্মফেয়ারের ৪০তম সংস্করণে ‘ক্রান্তিবীর’ ছবির অসামান্য অভিনয়ের জন্য তাঁকে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে সম্মানিত করা হয়। কিংবদন্তি অভিনেতা দিলীপ কুমার স্বয়ং সেদিন মঞ্চে উপস্থিত থেকে নানার হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন।

পুরস্কার গ্রহণ করার পর মঞ্চে দাঁড়িয়ে স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে এক সংক্ষিপ্ত অথচ বিস্ফোরক ভাষণ দেন নানা পাটেকর। তিনি অকপটে বলেছিলেন, “আমাকে দেখতে অভিনেতার মতো লাগে না। এত সুন্দর চেহারা থাকা সত্ত্বেও আমি এটা পেয়েছি। আমি খুশি। আমি আপনাদেরই একজন। এতদিন পর্যন্ত ভাবতাম ফিল্মফেয়ার পুরস্কার কেনা হয়। এটা পাওয়ার পর আমার মনে হচ্ছে যে এগুলো কেনা হয় না। সবারই একই রকম মনে হচ্ছে। যদি আমি এটা না পেতাম, তাহলে বলতাম যে ওখান থেকে কিনে নেওয়া হয়েছে। আমি কী করতে পারি, সর্বোপরি আমি একজন মানুষ। অনুভূতিটা এমনই হবে। ধন্যবাদ।”

যে মুহূর্তটি আজও স্মরণীয় নানার এই ঠোঁটকাটা অথচ সরল সত্য কথন শুনে সে সময় উপস্থিত দর্শকরা তো বটেই, হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন আয়োজকরাও। তবে তাঁর এই সৎ স্বীকারোক্তি অনুষ্ঠানে এক অন্য মাত্রা যোগ করে। কিংবদন্তি দিলীপ কুমার তখন স্নেহভরে নানার পিঠ চাপড়ে দেন এবং পুরো অডিটোরিয়াম জুড়ে তুমুল করতালির ঢেউ বয়ে যায়। অভিনেতার প্রয়াণের পর ফিল্মফেয়ারের পক্ষ থেকেও এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের ভিডিও শেয়ার করে তাঁকে বিশেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। মনের কথা মনে না রেখে ঠিক যেভাবে তিনি তা সবার সামনে প্রকাশ করতেন, নানা পাটেকরের এই স্মৃতি ভক্তদের হৃদয়ে চিরকাল অমলিন হয়ে থাকবে।