৮০ হাজার সভা আর ৪৩টি জাতিতে শান! ২০২৭ সালের উত্তর প্রদেশ দখল করতে বিজেপির কোন মহাব্যুহ ফাঁস?

আসন্ন ২০২৭ সালের উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন থেকেই নিজেদের ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)। তৃণমূল স্তরে নিজেদের নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করতে এবং ভোটারদের প্রতিটি স্তরে পৌঁছাতে এক বিশাল কৌশলগত মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই কৌশলের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে রাজ্যজুড়ে ৮০,০০০ ‘সর্ব সমাজ সভা’ আয়োজন করা এবং প্রায় ৪৩টি বিশেষ সম্প্রদায়ের ওপর গভীর মনোযোগ দেওয়া।

সমন্বয় সভায় উঠে এল তৃণমূল কর্মীদের অসন্তোষ সম্প্রতি উত্তর প্রদেশের সুলতানপুরে সংঘ, বিজেপি এবং সহযোগী সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতির পাশাপাশি সংগঠনের অন্দরের বিভিন্ন সমীকরণ নিয়েও আলোচনা হয়। সূত্রের খবর, এই বৈঠকে দলের নিচুতলার কর্মী ও শ্রমিকদের একাংশের ক্ষোভ ও অসন্তোষের বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে। বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কার্যক্রম বা স্থানীয় স্তরের কিছু অভিযোগ নিয়ে তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে যে চাপা ক্ষোভ রয়েছে, তা গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছে নেতৃত্ব। ভোটের বৈতরণী পার হওয়ার আগে এই অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ প্রশমিত করাকেই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে গেরুয়া শিবির।

কী রয়েছে এই মহাপরিকল্পনায়? ১. সর্ব সমাজ সভা: রাজ্যের প্রতিটি কোণায় সমস্ত সম্প্রদায়কে এক ছাতার নিচে আনতে এবং তাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে মোট ৮০ হাজার ‘সর্ব সমাজ সভা’ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ২. সম্প্রদায়ভিত্তিক ফোকাস: নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত ৪৩টি সম্প্রদায়ের সামাজিক ও রাজনৈতিক চাহিদার ওপর ভিত্তি করে প্রচারের রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে। ৩. বুথ স্তরে রিয়েল-টাইম নজরদারি: প্রচারের পরিধি কেবল জেলা বা বিধানসভা কেন্দ্রেই সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে না, বরং একেবারে বুথ স্তর পর্যন্ত রিয়েল-টাইম মনিটরিং বা রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ করার কঠোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ার আগেই তৃণমূল স্তরের শক্তি বাড়াতে এবং সমস্ত সামাজিক সমীকরণ নিজেদের অনুকূলে আনতে বিজেপি ও আরএসএসের এই যৌথ উদ্যোগ রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।