‘আন্দোলনজীবী’ শব্দটা পেলেন কোথায়? উত্তরপ্রদেশ সরকারকে কাঠগড়ায় তুলল এলাহাবাদ হাইকোর্ট!

জাতীয় নিরাপত্তা আইন (NSA)-এর অধীনে সাংবাদিক সত্যম ভার্মাকে আটক করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত সরকারি পরিভাষা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। আটকের কারণ হিসেবে নথিতে ব্যবহৃত ‘আন্দোলনজীবী’ (Andolanjivi) শব্দটি কোথা থেকে এল এবং কীভাবে তা সরকারি নথিতে স্থান পেল, তা নিয়ে সরাসরি উত্তরপ্রদেশ সরকারের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল মনীশ গোয়েলকে প্রশ্ন করেছে আদালত।
বিচারপতি অতুল শ্রীধরন ও বিচারপতি অচল সচদেবার সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ গত ৭ ও ৮ অক্টোবর এই মামলার ম্যারাথন শুনানি সম্পন্ন করে ৮ অক্টোবর রায় সংরক্ষিত রেখেছে।
আদালতের মূল প্রশ্ন ও আইনি বিতর্ক
শুনানি চলাকালীন হাইকোর্ট সুনির্দিষ্টভাবে জানতে চেয়েছে যে, কোনো ব্যক্তির নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শ, তাঁর কাছে থাকা সাহিত্যিক বইপত্র এবং কোনো সংগঠনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ কীভাবে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের (NSA) আওতায় আটক করার মতো যথেষ্ট বা বৈধ ভিত্তি হতে পারে?
সাংবাদিক সত্যমের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী কলিন গনসালভেস আদালতে জোরালো যুক্তি দিয়ে জানান যে, সাংবাদিকতা, লেখালেখি, অনুবাদ করা, সাহিত্য পাঠ কিংবা কোনো নির্দিষ্ট মতাদর্শে বিশ্বাস রাখা—কখনোই এনএসএ-র মতো কঠোর আইনের অধীনে কাউকে কারাবন্দি করার ভিত্তি হতে পারে না।
সোশ্যাল মিডিয়া থেকে টেক্সট কপি করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
মামলার শুনানিতে আরও একটি গুরুতর বিষয় সামনে আসে। পিটিশনে অভিযোগ করা হয়েছে যে, সত্যম ভার্মাকে আটকের কারণ হিসেবে নথিতে যে উপাদান বা তথ্যগুলো দেখানো হয়েছে, তার একটি বড় অংশ গত ১৪ এপ্রিল, ২০২৬-এ ‘এক্স’ (পূর্বের টুইটার) হ্যান্ডেলের ‘দ্য ক্রনোলজি’ নামক একটি অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা একটি থ্রেড থেকে সরাসরি কপি বা নকল করা হয়েছে!
সাংবাদিকের মতাদর্শকে নিশানা করে এই বেআইনি আটকের অভিযোগ তুলে ক্ষতিপূরণের দাবি জানানো হয়েছে এই মামলায়। এখন এলাহাবাদ হাইকোর্টের সংরক্ষিত এই রায়ের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে আইনি মহল।