“আমার নিজের বড় ভাই আমায় ছেড়ে চলে গেল!” নানা পাটেকরের প্রয়াণে চোখ ভিজল ২৫ বছরের পুরোনো প্রতিবেশীর

র্ষীয়ান অভিনেতা ও জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত তারকা নানা পাটেকরের প্রয়াণের খবরে শুধু বি-টাউন বা চলচ্চিত্র জগত নয়, গভীর শোকে ডুবে গিয়েছে মহারাষ্ট্রের পুণের প্রত্যন্ত ডোনজে (Donje) গ্রামও। রুপোলি পর্দার এই মহা-তারকার ২৫ একরের বিশাল খামারবাড়ি ছিল এই গ্রামেই। গ্ল্যামার দুনিয়ার চাকচিক্য ছেড়ে ডোনজে গ্রামের অতি সাধারণ মানুষের মধ্যেই তিনি খুঁজে পেতেন জীবনের আসল আনন্দ। তাঁর চিরবিদায়ে আজ কান কান্নায় ভেঙে পড়েছেন খামারবাড়ির পাশাপাশি বাস করা ২৫ বছরের পুরোনো বন্ধু ও প্রতিবেশী শ্রীকান্ত মহালে।
“আমার নিজের বড় ভাই আমাকে ছেড়ে চলে গেল”
টিভি৯ ভারতবর্ষ-এর প্রতিনিধির মুখোমুখি হয়ে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি শ্রীকান্ত মহালে। রুদ্ধকণ্ঠে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, “নানা আমার কাছে শুধুই কোনো নামজাদা অভিনেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমার নিজের গর্ভজাত বড় ভাইয়ের মতো। কোভিড লকডাউনের সময়টা নানা বেশিরভাগ সময় আমার সঙ্গেই কাটাতেন। প্রতিদিন আমরা দুজন ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা দিতাম, গল্প করতাম এবং একসঙ্গে দুপুরের খাবার খেতাম।”
অত্যন্ত আবেগঘন হয়ে শ্রীকান্তবাবু আরও জানান, “নানা পাটেকরের মতো অত বড় মাপের মাটির মানুষ আমি জীবনকালে দ্বিতীয়টি দেখিনি। মানুষের যে কোনো সুখে-দুঃখে তিনি সর্বাগ্রে এসে দাঁড়াতেন। যখন আমার স্ত্রী মারা যান, তখন নানা আমাকে নিজের হাতে আগলে রেখেছিলেন এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে দেননি। আজ আমার সেই পরম আশ্রয়, আমার নিজের বড় ভাই আমাকে ছেড়ে চলে গেল!”
নিজের হাতে খাসির মাংস রেঁধে খাওয়াতেন নানা
নানা পাটেকরের সঙ্গে কাটানো বহু ব্যক্তিগত ও মিষ্টি মুহূর্তের কথা স্মরণ করে প্রতিবেশি শ্রীকান্তবাবু জানান, তারকা হওয়ার কোনো অহংকার তাঁর মধ্যে বিন্দুমাত্র ছিল না। নিজের খামারবাড়িতে এলে তিনি সাধারণ মানুষের মতোই থাকতেন। রান্না করতে ভীষণ ভালোবাসতেন নানা, বিশেষ করে খাসির মাংস (মটন) রান্নায় তাঁর জুড়ি মেলা ভার ছিল। প্রতিবেশীদের ডেকে ডেকে নিজের হাতে রান্না করা পদ খাওয়াতেন তিনি।
প্রসিদ্ধ এই অভিনেতার প্রয়াণে আজ গোটা ডোনজে গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে এক নিস্তব্ধ শোকের ছায়া। গ্রামবাসী থেকে শুরু করে প্রতিবেশীরা একবাক্যে স্বীকার করছেন, তাঁরা আজ একজন মহান অভিভাবককে হারিয়ে ফেললেন।