“ওরা তো আমাদেরই সন্তান, লাঠিচার্জ কেন?” বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুলে তোলপাড় ফেললেন মুরলি মনোহর যোশী!

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের জোরালো প্রতিবাদ এবং দিল্লির রাজপথে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের কড়া লাঠিচার্জের আবহে এবার নিজ দলের সরকারের নীতি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন প্রবীণ বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুরলি মনোহর যোশী। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে পুলিশি বলপ্রয়োগের কড়া সমালোচনা করার পাশাপাশি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখার পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছেন তিনি।

“ছাত্ররা আমাদের সন্তান, লাঠিচার্জ কোনো সমাধান নয়”

দিল্লিতে আয়োজিত ২১তম ফিকি (FICCI) উচ্চশিক্ষা সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী মুরলি মনোহর যোশী স্পষ্ট ভাষায় জানান, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির ওপর পুলিশি লাঠিচার্জ কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য হতে পারে না।

আবেগঘন সুরে প্রবীণ এই জননেতা বলেন, “প্রতিবাদ বা বিক্ষোভ একটা ভিন্ন বিষয় হতে পারে, কিন্তু শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিগুলো সবসময় শোনা উচিত। তাদের কথা সম্পূর্ণ সহানুভূতির সঙ্গে শোনা দরকার। বলপ্রয়োগ বা লাঠিচার্জ করে কখনও কোনো জটিল সমস্যার সমাধান হতে পারে না। শেষ পর্যন্ত এরা তো আমাদেরই সন্তান!”

একটি পারিবারিক উদাহরণ টেনে তিনি আরও যোগ করেন, “যখন কোনো শিশু তার বাবার কাছে কিছু পাওয়ার দাবি জানায় বা অভিযোগ করে, তখন কি বাবা তাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন? নিশ্চয়ই না! বাবা তাকে ভালোবেসে পরিস্থিতি বোঝান এবং দাবি পূরণের আশ্বাস দেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিও প্রশাসনের ঠিক এই পারিবারিক ও সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি রাখা উচিত।”

স্বচ্ছ নির্বাচন ও সরকারের স্থায়িত্ব নিয়ে বড় বার্তা

নির্বাচন কমিশন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নিরপেক্ষতা এবং ভোটার তালিকা যাচাইকরণের বিতর্ক (SIR Conflict) প্রসঙ্গে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গণতন্ত্র ও স্বচ্ছতার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেন।

তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, “জনগণের দ্বারা, জনগণের জন্য এবং জনগণের নির্বাচিত সরকার পৃথিবী থেকে কখনও হারিয়ে যাবে না—যদি নির্বাচন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হয়, সমগ্র প্রক্রিয়া জুড়ে সরকারের পূর্ণ জবাবদিহিতা থাকে এবং আমলাতন্ত্র ১০০% স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করে।”

বিরোধী আন্দোলনের উত্তাপের মধ্যে দেশের অন্যতম শীর্ষ ও জ্যেষ্ঠ বিজেপি রাজনীতিকের এই ভারসাম্যপূর্ণ ও প্রশাসনিক বার্তা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।