‘শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী থাকলে বিধানসভায় যাব না!’ রেজিনগরের উপনির্বাচনের পরই বিস্ফোরক ঘোষণা বিধায়কের!

রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের রেশ কাটতে না কাটতেই রাজ্য রাজনীতিতে এক অভাবনীয় ও নাটকীয় মোড়। ক্যামেরার সামনে প্রকাশ্যেই আবেগে কান্নায় ভেঙে পড়ে রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছা অবসরের কথা ঘোষণা করলেন বর্ষীয়ান ও বিতর্কিত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। রেজিনগরের সাধারণ মানুষের চরম প্রত্যাশা ও আস্থা পুরোপুরি পূরণ করতে না পারার গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করার পাশাপাশি তিনি ঘোষণা করেছেন যে, শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন থাকা পর্যন্ত তিনি আর কখনও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় পা রাখবেন না এবং প্রয়োজনে নিজের বিধায়ক পদ থেকেও ইস্তফা দিতে পারেন।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ কন্ঠে হুমায়ুন কবীর স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, বিগত দিনে এলাকার উন্নয়নে তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করলেও মানুষের না পাওয়ার বেদনা তাঁকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। তবে সক্রিয় রাজনীতি ও জনপ্রতিনিধিত্বমূলক ভূমিকা থেকে সম্পূর্ণ সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেও তাঁর দীর্ঘদিনের চর্চিত ও বিতর্কিত প্রজেক্ট—বাবরি মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা থেকে তিনি যে একচুলও পিছিয়ে আসছেন না, তা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় পরিষ্কার করে দিয়েছেন। আইনি সমস্ত বিধিবিধান ও নিয়মকানুন মেনে একটি রেজিস্টার্ড ট্রাস্টের মাধ্যমেই এই ঐতিহাসিক মসজিদ নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলবে বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে মসজিদ নির্মাণে বারবার প্রশাসনিক বাধা ও নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরির তীব্র সমালোচনা করে সরব হয়েছেন তিনি।

রাজনীতির আঙিনা থেকে হুমায়ুনের এই হঠাৎ বিদায়ের ঘোষণা এবং বাবরি মসজিদ নির্মাণ সংক্রান্ত তাঁর এই অনড় অবস্থান বর্তমানে গোটা রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, রেজিনগর উপনির্বাচনের ফল এবং পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণ থেকেই এই ধরণের বিস্ফোরক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন এই বর্ষীয়ান নেতা। তবে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিলেও তাঁর এই মসজিদ গড়ার জেহাদ এবং শুভেন্দু অধিকারীকে কেন্দ্র করে করা মন্তব্য রাজ্যজুড়ে নতুন করে জোর চর্চা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সবমিলিয়ে, হুমায়ুন কবীরের এই মন্তব্য ঘিরে এখন উত্তাল বাংলার রাজনৈতিক মহল।