‘আমার গুরু চলে গেলেন!’ নানা পাটেকরের আকস্মিক প্রয়াণে কান্নায় ভেঙে পড়লেন পঙ্কজ ত্রিপাঠী!

বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকরের আকস্মিক প্রয়াণে গোটা ভারতীয় চলচ্চিত্র জগৎ স্তব্ধ ও শোকাহত। ৭৫ বছর বয়সে এই কিংবদন্তি অভিনেতার চিরবিদায়ের খবরে একের পর এক তারকা নিজেদের স্মৃতিচারণ করছেন। নানা পাটেকরের সঙ্গে জনপ্রিয় ছবি ‘কালা’-তে একসঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে পঙ্কজ ত্রিপাঠী জানিয়েছেন যে, প্রিয় সহকর্মীকে হারানো তাঁর কাছে শুধু ইন্ডাস্ট্রির একটি অপূরণীয় ক্ষতিই নয়, বরং ব্যক্তিগতভাবেও এক গভীর শূন্যতা।

পঙ্কজ ত্রিপাঠীর কাছে নানা পাটেকরের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর অভিনয়জীবনের অন্যতম প্রধান এবং মূল্যবান অধ্যায়। তাঁর স্মৃতিতে নানা শুধুমাত্র একজন সহ-অভিনেতা ছিলেন না, ছিলেন এমন একজন অসাধারণ শিল্পী, যাঁর কাছ থেকে প্রতিদিন প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শেখা যেত। অভিনয়ের গভীর টেকনিক থেকে শুরু করে জীবনের নানা জটিল সিদ্ধান্ত, চরিত্রকে বোঝার সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং অভিনয়ের ক্ষুদ্রতম খুঁটিনাটি বিষয়গুলিও নানা তাঁকে বুঝিয়ে দিয়েছেন বলে জানান পঙ্কজ। নানার সঙ্গে একই ফ্রেমে স্ক্রিন শেয়ার করার সুযোগ তাঁর কাছে চিরকাল অত্যন্ত বিশেষ হয়ে থাকবে। নানা পাটেকরকে সামনে থেকে দেখা, নিখুঁত অভিনয় লক্ষ্য করা এবং তাঁর মূল্যবান কথা শোনা থেকেই তিনি অভিনয়ের অনেক দিক আয়ত্ত করেছেন। ঠিক এই কারণেই নানা সাহেবের এই মহাপ্রয়াণকে পঙ্কজ একজন প্রকৃত ‘গুরু’কে হারানোর বেদনার সঙ্গে তুলনা করেছেন।

শুধু অভিনয়ের শিক্ষক হিসেবেই নয়, একজন অনন্য শিল্পী হিসেবে নানা পাটেকরের স্বাতন্ত্র্যও বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন পঙ্কজ ত্রিপাঠী। তাঁর মতে, নানা এমন একজন বিরল অভিনেতা ছিলেন যিনি যেকোনো চরিত্রের ভেতরে সম্পূর্ণভাবে মিশে যেতে পারতেন। পর্দায় চরিত্র হয়ে ওঠার পরেও নিজের অভিনয়ের এমন এক অমোঘ ছাপ রেখে যেতেন, যা দর্শকের মনে দীর্ঘকাল স্থায়ী হতো। তাঁর অভিনয়ের এই ব্যতিক্রমী জাদুকরী ক্ষমতাই তাঁকে সমসাময়িক অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছিল। নানার অবদান কোনো নির্দিষ্ট গুটিকয়েক ছবির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভারতীয় সিনেমায় অভিনয়কে কীভাবে দেখা উচিত, একজন অভিনেতা কীভাবে নিজের চরিত্রকে জীবন্ত করে তোলেন এবং কতটা গভীরে গিয়ে অভিনয় করেন—সেই ধারণার উপরেও নানার সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে।

২০১৮ সালে পা রঞ্জিত পরিচালিত ছবি ‘কালা’-তে রজনীকান্তের বিপরীতে হরিদেব অভয়ঙ্করের চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় করেছিলেন নানা পাটেকর। সেই ছবিতে পঙ্কজ ত্রিপাঠীও ইনস্পেক্টর পাটিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। নানার সঙ্গে কাজ করার সেই সোনালী স্মৃতি আজ পঙ্কজের কাছে আরও বেশি অমূল্য। নানার প্রয়াণকে তাই একটি স্বর্ণযুগের অবসান হিসেবেই দেখছেন পঙ্কজ। পঙ্কজের কাছে এই বিদায় কেবল একজন কিংবদন্তির চলে যাওয়া নয়, বরং একজন শিক্ষক, অনন্য শিল্পী এবং এক প্রজন্মের অফুরান অনুপ্রেরণাকে চিরতরে হারানোর গভীর বেদনা।