‘পরীক্ষা চলাকালীন আর একা রাখা হবে না পড়ুয়াদের!’ আত্মহত্যার পথ রুখতে কড়া নিয়ম বদলাল আইআইটি!

দ্বিতীয় বর্ষের বিটেক ছাত্র সাহিল ওয়াকোড়ের মর্মান্তিক আত্মহত্যার ঘটনার পর অবশেষে হুঁশ ফিরল দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইআইটি বম্বে (IIT Bombay)-র। পরীক্ষার হলে অসদুপায় অবলম্বন বা টুকলি করার অভিযোগে শিক্ষার্থীদের ওপর চলা কঠোর এবং নিগ্রহমূলক শাস্তিমূলক পদক্ষেপে বড় ধরনের মানবিক ও সংবেদনশীল পরিবর্তন আনতে চলেছে প্রতিষ্ঠানটি। গত ১৮ সেপ্টেম্বর মিড-সেমিস্টার পরীক্ষার সময় সাহিলের কাছে মোবাইল ফোন পাওয়ার পর যে চরম মানসিক চাপ ও প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হয়েছিল, তারই ফলস্বরূপ এই বড় সিদ্ধান্ত।
বুধবার আইআইটি বম্বের বিশেষ সেনেট বৈঠকে একটি উচ্চপর্যায়ের অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির সুপারিশ পেশ করা হয়। প্রস্তাবিত নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পরীক্ষার হলে কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে টুকলি বা অসদুপায়ের অভিযোগ উঠলেও তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে হল থেকে বের করে দেওয়া হবে না বা খাতা কেড়ে নেওয়া হবে না। বরং ঘটনার বিবরণ নথিবদ্ধ করার পর তাঁকে একটি নতুন উত্তরপত্র দিয়ে সম্পূর্ণ পরীক্ষা শেষ করার সুযোগ দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি, তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিষ্ঠানের ‘কুইক রেসপন্স টিম’ (QRT)-কে সতর্ক করা হবে যাতে অভিযুক্ত পড়ুয়াকে পরীক্ষার শেষে এক মুহূর্তের জন্যও একা না রাখা হয়।
ইনভিজিলেটরের ভূমিকা কেবলমাত্র প্রমাণ বাজেয়াপ্ত ও রেকর্ড করার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। পরীক্ষা শেষে ছাত্রছাত্রীরাও নিজস্ব সাফাই বা বয়ান লিখিতভাবে জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন। উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুলাই মাসে আইআইটি বম্বে প্রশাসন পরীক্ষায় মোবাইল মিললেই এক সেমিস্টার সাসপেনশন এবং ‘FR’ গ্রেড দেওয়ার মতো অত্যন্ত কঠোর নিয়ম চালু করেছিল। সাহিলের মৃত্যুর পর তৈরি হওয়া তীব্র ছাত্র বিক্ষোভের মুখে সেই কড়া বিধান সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে ২০১৫ সালের পুরোনো নিয়মে ফেরার পথ বেছে নিয়েছে সেনেট। পাশাপাশি, পরীক্ষার হলের ভেতরে ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিষিদ্ধ করা, সিসিটিভি নজরদারি বৃদ্ধি এবং ওয়াশরুমে যাওয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ির মতো একাধিক প্রশাসনিক বিধিমালাও আনা হচ্ছে।