‘প্রিয় বন্ধুকে হারালাম!’ নানা পাটেকরের প্রয়াণে কান্নায় ভেঙে পড়লেন অভিনেতা অর্জুন চক্রবর্তী!

সালটা ১৯৮৬। পরিচালক এন চন্দ্রর হাত ধরে বলিউডে মুক্তি পেয়েছিল সাড়া জাগানো ছবি ‘অঙ্কুশ’। একদল পাড়ার বখাটে যুবক, এক নারীর ওপর নির্যাতন এবং সমাজের কদর্য রূপকে প্রকাশ্যে প্রশ্নবিদ্ধ করা এই ছবি বক্স অফিস থেকে শুরু করে সমালোচকদের মন জয় করেছিল। সেই আইকনিক ছবিতেই নানা পাটেকরের সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন বাঙালি অভিনেতা অর্জুন চক্রবর্তী। কেরিয়ারের একেবারে শুরুর সেই দিনগুলোতে নানার সঙ্গে গড়ে ওঠা সুগভীর বন্ধুত্বের স্মৃতি আজও টাটকা অর্জুনের মনে। কিন্তু সেই ঘনিষ্ট বন্ধু চিরতরে চলে যাওয়ার খবরে আজ গভীরভাবে শোকাহত ও ভেঙে পড়েছেন তিনি। টিভি নাইন বাংলা ডিজিটালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কান্নাভেজা গলায় অর্জুন বলেন, “আমি আমার এক প্রিয় বন্ধুকে হারালাম।”
১৯৮৬ সালের স্মৃতিচারণা করে অর্জুন জানান, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র বাইশ বছর। কেরিয়ারের ওই শুরুর দিনগুলিতেই নানা পাটেকরের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও বন্ধুত্বের সূত্রপাত ঘটে। অর্জুনের ভাষায়, “এখন এই বয়সে এসে তো আমরা চেনা জানা মানুষ মাত্রকেই বন্ধু বলে দিই। কিন্তু নানা আর আমি সত্যিই খুব ভালো বন্ধু ছিলাম। ও ব্যক্তিগত জীবনে ভীষণ মাত্রায় ডিসিপ্লিনড বা শৃঙ্খলাপরায়ণ ছিল।” বলিউডে পাকাপাকিভাবে থিতু হওয়ার জন্য অর্জুনকে নানা বারবার উৎসাহিত করতেন বলেও জানান তিনি। নানা বলতেন, “কলকাতায় সেভাবে কাজ পাবি না, তুই মুম্বই চলে আয়। মুম্বইয়ে আমার ছেলের বড় ফ্ল্যাট আছে, সেখানে এসে থাকবি এবং কাজ করবি।”
পর্দায় শুধু রাগী বা খল চরিত্রের মানুষ হিসেবে নানা পরিচিত হলেও, বাস্তব জীবনে তিনি যে কতটা সংবেদনশীল ও মানবিক হৃদয়ের অধিকারী ছিলেন, সে কথাও এ দিন অকপটে তুলে ধরেন অর্জুন। তিনি জানান, মহারাষ্ট্রের খরা কবলিত এলাকার দুস্থ কৃষকদের জীবনযাত্রা নিয়ে সবসময় গভীরভাবে চিন্তিত থাকতেন নানা। কৃষকদের ক্রমবর্ধমান আত্মহত্যা রোধ করতে এবং তাঁদের পরিবারগুলোকে নিয়মিত আর্থিক সাহায্য ও পুনর্বাসন দেওয়ার জন্য তিনি বিভিন্ন প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এমনকি গ্রামীণ প্রকৃতির কোলে শান্তি ও স্বস্তি পাওয়ার জন্য তিনি একটি নিজস্ব ফার্মহাউসও তৈরি করেছিলেন।
নানার সঙ্গে তাঁর শেষ কথোপকথনের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে অর্জুন চক্রবর্তী জানান যে, মৃত্যুর মাত্র দশ দিন আগেই নানা পাটেকরের সঙ্গে তাঁর ফোনে শেষ কথা হয়েছিল। সেই আড্ডায় নানা তাঁকে আক্ষেপের সুরে বলেছিলেন যে, তাঁর এখন আর কিছুই ভালো লাগছে না এবং চারপাশের এই জগতটা যেন বড্ড বেশি মেকি ও কৃত্রিম ঠেকছে। বরাবরই অত্যন্ত স্পষ্টবাদী স্বভাবের মানুষ ছিলেন নানা পাটেকর, মুখের ওপর সত্য কথা বলতে তিনি কখনো পিছপা হননি। কিন্তু সেই মানুষটাই যে এত দ্রুত এভাবে আকস্মিক চলে যাবেন, তা আজও কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না শোকস্তব্ধ অর্জুন। বন্ধু হারানোর এই গভীর শূন্যতা কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। আর সেই কারণেই পুরনো সমস্ত সোনালী দিন ও স্মৃতিকে আঁকড়ে ধরে আজ ফের একবার বন্ধু নানার সঙ্গে করা সেই ঐতিহাসিক কালজয়ী ছবি ‘অঙ্কুশ’ দেখতে বসার কথা জানিয়েছেন শোকে পাথর হয়ে যাওয়া অর্জুন চক্রবর্তী।