AI-জগতেও বেতনের বৈষম্য! ১০% কম পারিশ্রমিক পাচ্ছে নারী এআই বট?

প্রযুক্তির হাত ধরে বিশ্ব যতই আধুনিকতার দিকে এগোচ্ছে, মানবসমাজের বহু পুরনো বৈষম্য ও সংস্কারগুলো ঠিক তেমনই নতুন রূপ ধারণ করে ফিরে আসছে। এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বা ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্টদের ক্ষেত্রেও কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্য ছড়িয়ে পড়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এল এক নতুন গবেষণায়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিপেনডেন্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মানুষ পুরুষ এআই এজেন্টদের কাজের জন্য নারী এজেন্টদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি পারিশ্রমিক দিতে প্রস্তুত!

গবেষণায় ঠিক কী উঠে এসেছে?

আয়ারল্যান্ডের ‘ইউনিভার্সিটি অফ লিমেরিক’-এর গবেষকদের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ভার্চুয়াল রিয়ালিটি (VR) অফিসে কর্মরত মানুষেরা এআই বটগুলির সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্ন আচরণ করছেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, নারী ও পুরুষ—উভয় এআই এজেন্টের ভেতরের প্রযুক্তি বা কোডিং হুবহু এক হওয়া সত্ত্বেও, নারী বটগুলোকে একই কাজ নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করার জন্য পুরুষ বটগুলোর তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ কম পারিশ্রমিক দেওয়া হয়েছে।

এই গবেষণায় ১৮৯ জন মানব অংশগ্রহণকারী অংশ নিয়েছিলেন। তাঁরা ‘যোহান’ নামের এক পুরুষ এআই এজেন্ট এবং ‘জোয়ানা’ নামের এক নারী এজেন্টের সঙ্গে কাজ করেন। গবেষণার ফলাফল বলছে, অংশগ্রহণকারীরা কেবল পুরুষ এআই ‘যোহান’-কেই বেশি পারিশ্রমিক দেননি, বরং তাকে জোয়ানার তুলনায় অনেক বেশি ‘মানবসুলভ’ বলেও মনে করেছেন।

পুরোনো বৈষম্যেরই ভার্চুয়াল প্রতিচ্ছবি

গবেষণার সহ-লেখক ও ইউনিভার্সিটি অফ লিমেরিকের গবেষক ড. মেরি হাউজফেল্ড এই প্রসঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, “আমাদের গবেষণা স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে, এআই এজেন্টগুলোর ভেতরের প্রযুক্তি একই হওয়া সত্ত্বেও মানুষ এদের সঙ্গে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছে। আমরা সাধারণত এআই-কে শতভাগ নিরপেক্ষ মনে করি। কিন্তু এই সিস্টেমগুলো যেভাবে ডিজাইন করা হয় এবং মানুষের সামনে উপস্থাপন করা হয়, তাতে মানুষের মনের সেই পুরনো আগাম সংস্কার ও লিঙ্গভিত্তিক পক্ষপাতই আবার উসকে যায়।”

বাস্তব জগতের কর্মক্ষেত্রের লিঙ্গভিত্তিক বেতনের বৈষম্যের সঙ্গেই এর মিল খুঁজে পাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে সার্বিক কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক বেতনের ব্যবধান প্রায় ৬.৯ শতাংশ। আর আইটি কনসালটেন্সি ফার্ম ‘অ্যাকসিলেরেট’-এর সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, ২০২৬ সালে এসে প্রায় ৮০ শতাংশ কোম্পানি তাদের কর্মক্ষেত্রে এআই এজেন্ট ব্যবহার করছে, যার ফলে প্রাত্যহিক দপ্তরে এআই-এর প্রভাব বেড়েই চলেছে।

সতর্কতার বার্তা বিশেষজ্ঞদের

ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নিয়ে তাই এখনই সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন গবেষকরা। ড. মেরি হাউজফেল্ড আরও বলেন, “কর্মক্ষেত্রে এআই এজেন্টগুলোর ব্যবহার যত দ্রুত বাড়ছে, আমাদের অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ভাবতে হবে যে আমরা এদের কী ধরনের বৈশিষ্ট্য দিচ্ছি। আমরা কোনোভাবেই চাই না যে, একটি নতুন প্রযুক্তির আড়ালে অসাবধানতাবশত সমাজে টিকে থাকা বৈষম্যগুলোই আবার কৃত্রিমভাবে পুনরায় তৈরি হোক।”

উল্লেখ্য, ‘হিউম্যান-লাইক অ্যান্ড মেল? হাউ এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিজাইন রিলেটস টু ট্রাস্ট অ্যান্ড মনিটারি রিওয়ার্ড অ্যাট ওয়ার্ক ইন ভিআর’ শীর্ষক এই সম্পূর্ণ গবেষণাটি ফিনল্যান্ডের ভাসা শহরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘হিউম্যান-কম্পিউটার ইন্টারঅ্যাকশন’-এর ১৪তম নর্ডিক কনফারেন্সে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপিত হতে চলেছে।