“কলার ধরে টানাটানি, ১২ ঘণ্টা আটক”-রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা কান্নায় ভেঙে পড়া হুমায়ূনের

রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের রোমহর্ষক পর্ব মিটতেই রাজ্য রাজনীতিতে এক বোমাতঙ্কের মতো ঘোষণা করলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা তথা মুর্শিদাবাদের নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। ভোটলুট ও রিগিংকে কেন্দ্র করে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে দিনভর তীব্র সংঘাতে জড়ানোর পর, বুধবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসে। সেই ভিডিওতে রীতিমতো কাঁদতে দেখা যায় এই দাপুটে নেতাকে। রেজিনগরবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি পাকাপাকিভাবে রাজনীতি ও জনজীবন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেছেন।

ভোটের দিন ঠিক কী ঘটেছিল রেজিনগরে?

মঙ্গলবার সকালে রেজিনগরে নিজের ভোটদান সম্পন্ন করার পর থেকেই চরম বিক্ষোভে ফেটে পড়েন হুমায়ুন কবীর। তাঁর মূল অভিযোগ ছিল, উপনির্বাচনে অবাধে রিগিং ও ভোটলুট চালাচ্ছে শাসকপক্ষ। তাঁর দলের বহু পোলিং এজেন্টকে অধিকাংশ বুথেই ঢুকতে দেওয়া হয়নি এবং পুলিশ-প্রশাসনকে হাতিয়ার করেই এই অপকর্ম চলছে। সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করে সুর চড়ান তিনি।

এই অভিযোগ তোলার পরেই আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বচসায় জড়ান বিধায়ক। পরিস্থিতি চরমে পৌঁছালে পুলিশ তাঁকে আটক করে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, একজন পুলিশ আধিকারিক কলার ধরে হেঁচড়ে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন বিধায়ককে।

১২ ঘণ্টা আটক ও রাজনীতি থেকে অবসরের বার্তা

পুলিশের এই চরম হেনস্থার জেরে রেজিনগরজুড়ে দিনভর চরম রাজনৈতিক নাটকের সৃষ্টি হয়। টানা প্রায় ১২ ঘণ্টা থানায় বা পুলিশি হেপাজতে আটক থাকার পর মঙ্গলবারের গভীর রাতে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। জেল বা আটক মুক্ত হওয়ার পরেই বুধবার সকালে হুমায়ুনের এই আবেগঘন ও বিস্ফোরক ভিডিও সামনে আসে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওয় কাঁদতে কাঁদতে হুমায়ুনকে বলতে শোনা যায়, “রেজিনগরের সব স্তরের মানুষের কাছে আমি ক্ষমা চাইছি। আগামী দিনে রাজনীতি থেকে, সমস্ত কিছু থেকে সরে দাঁড়াব।” ভোটপর্ব চুকতে না চুকতেই এক হেভিওয়েট নেতার এমন আকস্মিক কান্নায় ভেঙে পড়া এবং রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা ঘিরে এখন রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে।