ইউপিআই লেনদেনে সামান্য ফি বাড়লেও কমবে না ক্রেতার আগ্রহ, আত্মবিশ্বাসী দাবি আরবিআই গভর্নরের!

ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস বা ইউপিআই (UPI)-এর মাধ্যমে লেনদেনে নামমাত্র চার্জ বসানো হলে সামগ্রিক লেনদেনের পরিমাণে কোনো বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে সাফ জানিয়ে দিলেন ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের (RBI) গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা। বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত मौद्रिक নীতি (মনিটরি পলিসি) পর্যালোচনা সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই আশাবাদের কথা শোনান।

সঞ্জয় মালহোত্রা বলেন, ‘‘বর্তমানে ডিজিটাল লেনদেনের যে গ্রাফ দেখা যাচ্ছে, তাতে সামান্য কোনো ফি বসালেও লেনদেনের পরিমাণে কোনো উল্লেখযোগ্য পতন আমাদের চোখে পড়ছে না। ব্যক্তিগতভাবে আমার বিশ্বাস, এই নামমাত্র শুল্ক সাধারণ মানুষের ডিজিটাল লেনদেনের অভ্যাসে বড় কোনো পরিবর্তন ঘটাবে না।’’ উল্লেখ্য, গত মাসেই ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (NPCI) ঘোষণা করেছে যে, এবার থেকে গ্রাহক বা ব্যক্তি থেকে ব্যবসায়ীদের (P2M) অ্যাকাউন্টে ২,০০০ টাকার বেশি ইউপিআই লেনদেনের ক্ষেত্রে ০.৪ শতাংশ পর্যন্ত মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (MDR) বা শুল্ক প্রযোজ্য হবে। এই নির্দিষ্ট চার্জ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেই আদায় করা হবে।

দেশের ব্যাংকিং খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি প্রসঙ্গে গভর্নর জানান, আগামী দিনগুলোতেও ব্যাংকগুলোর ঋণ দেওয়ার হার যথেষ্ট শক্তিশালী থাকবে, যা সার্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সচল রাখতে সাহায্য করবে। অতিরিক্ত নগদ তারল্যের মাঝে নন-ব্যাংকিং ফাইন্যান্সিয়াল কোম্পানি বা এনবিএফসি (NBFC)-গুলির সম্পদের গুণগত মানে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে কি না, সে বিষয়েও ব্যাংকগুলোকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আরবিআই। তবে গভর্নর স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই নিয়ে আতঙ্কের কোনো বড় কারণ নেই।

সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অতিরিক্ত নগদ অর্থের প্রবাহ দেখা গেলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পাশাপাশি, কনসেশনাল সোয়াপ সুবিধার আওতায় প্রবাসী ভারতীয়দের (NRI) কাছ থেকে প্রায় ১৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আমানত সংগ্রহ করাকে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামোর বুনিয়াদ মজবুত হওয়ার বড় প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন সঞ্জয় মালহোত্রা। ব্যাংকগুলো এই বিশাল পরিমাণ অর্থ অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে ব্যবহার করবে বলেই রিজার্ভ ব্যাংক সম্পূর্ণ আস্থাশীল।

বৈশ্বিক নানা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে বিদেশি পুঁজি বা মূলধনের প্রবাহ কিছুটা মন্থর হলেও চলতি হিসাবের ঘাটতির (Current Account Deficit) এই চাপকে একটি সাময়িক বা অস্থায়ী সমস্যা বলেই অভিহিত করেছেন তিনি। খুব শীঘ্রই দেশের পেমেন্ট ব্যালেন্স বা লেনদেনের ভারসাম্য পুনরায় উদ্বৃত্তের (Surplus) জায়গায় ফিরে আসবে বলে দৃঢ় আশাবাদী গভর্নর। তবে টাটা সন্সের এনবিএফসি লাইসেন্স বাতিলের আবেদন খারিজ করা এবং উচ্চ স্তরের এনবিএফসি নিয়মের অধীনে শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার নির্দেশ সংক্রান্ত বিতর্কিত প্রশ্নগুলোর উত্তর এড়িয়ে যান তিনি।