পুজোর আগেই মারাত্মক রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গি! আক্রান্ত ছাড়াল ৯ হাজার, কোন কোন জেলা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ?

দুর্গাপুজোর আনন্দ ও উৎসবের আবহের মধ্যেই রাজ্যজুড়ে নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গি। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে পাওয়া সর্বশেষ চাঞ্চল্যকর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাজ্যে মোট ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজার পেরিয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে পুজোর ঠিক আগে এই ক্রমবর্ধমান সংক্রমণ সাধারণ মানুষ ও স্বাস্থ্য আধিকারিকদের কপালে গভীর চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং ডেঙ্গির বিস্তার রোধ করতে আজই স্বাস্থ্য ভবনে এক উচ্চপর্যায়ের জরুরি প্রশাসনিক বৈঠক ডেকেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিগত মাত্র ৫ দিনেই নতুন করে প্রায় এক হাজার মানুষ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। রাজ্যজুড়ে আক্রান্তের এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলা, যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা আড়াই হাজার ছুঁইছুঁই। মুর্শিদাবাদের ঠিক পরেই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মহানাগরিক কলকাতা, এখানে ইতিমধ্যেই প্রায় ১ হাজার মানুষ ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া তৃতীয় অবস্থানে থাকা দক্ষিণ ২৪ পরগনায় আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে সাতশোর কাছাকাছি। পাশাপাশি উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়া জেলাতেও ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় সাতশোর ঘরে পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত রাজ্যে ডেঙ্গির এই হলুদ সতর্কতা বহাল থাকবে।
উৎসবের মরশুমে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্য ভবন থেকে ইতিমধ্যেই একটি কঠোর অ্যাডভাইজারি বা নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সেখানে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে, জ্বর এলে কেউ যেন অবহেলা না করেন এবং নিজের ইচ্ছেমতো ওষুধ খেয়ে চিকিৎসা করার চেষ্টা না করেন। জ্বরের প্রথম দিন থেকেই ডেঙ্গির নির্দিষ্ট উপসর্গের দিকে কড়া নজর রাখতে হবে। পাশাপাশি, আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে অন্য কোনো কো-মর্বিডিটি (comorbidity) বা জটিল শারীরিক সমস্যা রয়েছে কিনা, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে। যদি কোনো রোগীর শরীরে অন্য কোনো গুরুতর রোগ থাকে, তবে কালবিলম্ব না করে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। দুর্গাপুজোর আনন্দ যাতে ডেঙ্গির কারণে ম্লান না হয়, তার জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে একাধিক প্রতিরোধমূলক ও সচেতনতামূলক বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।