মৃত ও ভুয়ো ভোটারদের অধিকার দিতে চাইছে কংগ্রেস? তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বিস্ফোরক দাবি বিজেপির!

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের চরমে উঠল শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাত। মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় তোপ দাগলেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জাতীয় মুখপাত্র ও সাংসদ সুধাংশু ত্রিবেদী। তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, মৃত, অনুপস্থিত ও ডুপ্লিকেট ভোটারদের কোনো রকম যাচাই-বাছাই ছাড়াই ভোটাধিকার দেওয়ার পক্ষে কেন সওয়াল করছে কংগ্রেস? কার স্বার্থ চরিতার্থ করতেই এই ধরনের বিভ্রান্তিকর অবস্থান নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে আজ দেশজুড়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে।

দিল্লির পার্টি হেডকোয়ার্টারে আয়োজিত এই প্রেস কনফারেন্সে সুধাংশু ত্রিবেদী অভিযোগ করেন, কংগ্রেস নেতৃত্ব বরাবরই ভিত্তিহীন ও অসত্য তথ্য দিয়ে দেশের সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে আসছে। বিগত চার প্রজন্ম ধরে একটি নির্দিষ্ট পরিবার যেভাবে দেশের শাসনব্যবস্থা কুক্ষিগত করে রেখেছে, তা আদতে ‘গণতন্ত্রের টুঁটি চেপে ধরার’ শামিল। শুধু তাই নয়, সাম্প্রতিক ইন্ডিয়া জোটের নির্বাচন কমিশন ঘেরাও অভিযান ও আকাশবাণী ভবনে ঢুকে পড়ার ঘটনাকে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন, বিরোধী দলগুলো এখন প্রশাসনিক পরিসরেও বেআইনিভাবে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছে।

কংগ্রেসের দলীয় নীতি ও বয়ানের অসংগতি তুলে ধরে বিজেপি নেতা বলেন, অতীতে খোদ রাহুল গান্ধী, অভিষেক মনু সিংভি, অশोक গেহলট, শচীন পাইলট এবং কে.সি. বেণুগোপালের মতো শীর্ষস্থানীয় নেতারা বহুবার ভোটার তালিকার গরমিল ও ডুপ্লিকেসি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তবে আজ রাজনৈতিক স্বার্থে তাঁরা নিজেদের অবস্থান থেকে সম্পূর্ণ ইউ-টার্ন নিয়েছেন। সুধাংশু ত্রিবেদীর স্পষ্ট প্রশ্ন, “কংগ্রেস কি ২০১৬, ২০১৮, ২০২০ এবং ২০২১ সালে সঠিক কথা বলত, নাকি আজ যা বলছে সেটাই সত্যি? এই বিষয়ে দলের স্পষ্ট অবস্থান দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা উচিত।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধীদের সংসদ থেকে নির্বাচন কমিশন অভিমুখে মেগা মার্চের দিনই বিজেপির এই আক্রমণ রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে। নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও পবিত্রতা রক্ষা নিয়ে কেন্দ্রের শাসকদল ও বিরোধী শিবিরের এই লড়াই যে আগামী দিনে আরও তীব্র রূপ নেবে, তা বলাই বাহুল্য।