মমতার এক ফোনে ম্যাজিক! ইন্ডিয়া জোটে বড়সড় চমক দিয়ে প্রথমবার কোন বিরোধী মিছিলে পা মেলাল নবীন পট্টনায়েকের দল?

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগকে সামনে রেখে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র দিল্লি চলো অভিযানে এক ঐতিহাসিক মোড় এল। সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত অনুরোধে এই কর্মসূচিতে সামিল হয়েছে ওড়িশার প্রাক্তন শাসক দল বিজু জনতা দল (বিজেডি)। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে জাতীয় স্তরে সর্বদা বিজেপি ও বিরোধী শিবির থেকে সমদূরত্ব বজায় রাখা নবীন পট্টনায়েকের দল এই প্রথমবার সরাসরি কোনো বিরোধী জোটের যৌথ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করল, যা জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সূত্রের খবর, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকেই তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে ওড়িশার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিজেডি সুপ্রিমো নবীন পট্টনায়েকের সঙ্গে ব্যক্তিগত স্তরে তাঁর কথা হয়েছে। মমতার সেই ব্যক্তিগত আবেদনেই শেষ পর্যন্ত সাড়া দিয়েছেন নবীন বাবু। কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের পাশাপাশি এই মিছিলে বিজেডি সাংসদদের উপস্থিতি বিরোধী শিবিরকে অতিরিক্ত নৈতিক শক্তি জোগাল। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ওড়িশা থেকে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ খুঁজছে বিজেডি। আর মমতার এই কূটনৈতিক উদ্যোগের ফলে কি তবে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ইন্ডিয়া’ জোটে নতুন শরিক হিসেবে যুক্ত হতে চলেছে নবীন পট্টনায়েকের দল? এই জল্পনা এখন তুঙ্গে।
অন্যদিকে, এই মুহূর্তে বিরোধী জোটের অন্দরে একাধিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একদিকে যখন বিজেডির মতো দল মমতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে জোটে পা মেলাল, তখন অন্যদিকে দূরত্ব বজায় রাখছে আম আদমি পার্টি (আপ) এবং ডিএমকে। দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর থেকেই আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরীবাল ইন্ডিয়া জোটের কর্মসূচি থেকে নিজেদের গুটিয়ে রেখেছেন। এমনকি মমতার সঙ্গে কথা বলেও সেখানে ইতিবাচক ফল মেলেনি। পাশাপাশি, তামিলনাড়ু রাজনীতিতে কংগ্রেসের অবস্থান নিয়ে ক্ষুব্ধ ডিএমকে ইতিমধ্যেই জোটের পথ থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। এমন এক জটিল ও ভাঙনধরা রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মমতার হস্তক্ষেপে বিজেডির এই ঐতিহাসিক অন্তর্ভুক্তি বিরোধী জোটকে নতুন অক্সিজেন দিল বলেই মনে করছেন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।