ভোটের নামে দেদার লুঠ! জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মেগা মিছিলে গর্জে উঠল ‘ইন্ডিয়া’ জোট

ভোটার তালিকা সংশোধন ও ভোট চুরির গুরুতর অভিযোগকে কেন্দ্র করে ফের উত্তাল হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজধানী। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার রাস্তায় নেমে এক অভূতপূর্ব প্রতিবাদের সৃষ্টি করল বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, এদিন সকালে সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন সদন অভিমুখে এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিল শুরু করেন বিরোধীরা। এই মেগা মিছিলে নেতৃত্ব দেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা, তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সিপিএম সাংসদ জন ব্রিটাস, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এবং সাংসদ জয়া বচ্চনসহ একাধিক শীর্ষস্থানীয় বিরোধী নেতা ও সাংসদরা। হাজার হাজার কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে গোটা চত্বর রণক্ষেত্রের রূপ নেয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ দিন সকাল থেকেই সংসদ ভবন চত্বরে কঠোরভাবে ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছিল। নির্বাচন সদনের চারপাশে একাধিক স্তরের বিশাল ব্যারিকেড তৈরি করে মুড়ে ফেলা হয়েছিল গোটা এলাকা। মোতায়েন করা হয় বিপুল পরিমাণ পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী। ব্যারিকেডের পাশেই সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছিল প্রিজন ভ্যান ও বাস। পুলিশের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলেই আন্দোলনকারীদের তাৎক্ষণিকভাবে আটক করে বাসে তোলা হবে। তা সত্ত্বেও দমে না গিয়ে বিরোধীরা তাঁদের কর্মসূচি চালিয়ে যান। নির্বাচন কমিশনের দফতর থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরে আকাশবাণী ভবনের কাছে পৌঁছতেই দিল্লি পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে মিছিল আটকে দেয়।
পুলিশের এই কঠোর বাধার মুখে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিরোধী সাংসদরা। প্রতিবাদে ব্যারিকেডের ঠিক সামনেই প্রকাশ্য রাস্তায় সসৈন্যে বসে পড়েন রাহুল গান্ধী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অখিলেশ যাদবরা। সমাজবাদী পার্টির বেশ কয়েকজন কর্মী ও নেতাকে পুলিশের ব্যারিকেডের ওপর চড়ে স্লোগান দিতে দেখা যায়। আকাশবাণীর উল্টোদিকের রাস্তা তখন প্রকম্পিত হয়ে ওঠে “গলি গলি মেঁ শোর হ্যায়, জ্ঞানেশ কুমার চোর হ্যায়” এবং “ভোট চোর, গদি ছাড়” এর মতো তীব্র স্লোগানে। বিক্ষোভের মাঝেই তীব্র আক্রমণ শানিয়ে সমাজবাদী পার্টি প্রধান অখিলেশ যাদব বলেন, “নির্বাচন কমিশন ২০১৯, ২০২২ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে চরম পক্ষপাতিত্ব করেছে। বাংলায় তো দিনেদুপুরে ভোট লুঠের ঘটনা ঘটেছে, যা সকলের চোখের সামনে। উত্তরপ্রদেশের উপনির্বাচন এবং চণ্ডীগড়ে কীভাবে ভোট চুরি হয়েছে তা দেশবাসী দেখেছে।”
তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করে বলেন, “বাংলায় যেভাবে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে এবং সারা দেশে যেভাবে জনরোষ তৈরি হয়েছে, তা থেকেই স্পষ্ট মানুষের ক্ষোভ কোন চরম সীমায় পৌঁছেছে। বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতি কিংবা রান্নার গ্যাসের আকাশছোঁয়া দাম—কোনো কিছুতেই বিজেপির কিছু যায় আসে না। কারণ তারা জানে, নির্বাচন কমিশনে জ্ঞানেশ কুমার বসে আছেন এবং ভোট চুরি করে তাদের বৈতরণী পার করিয়ে দেবেন। রামমন্দিরের রাজনীতি করে বিজেপি যেমন অযোধ্যায় হেরেছে, তেমনই মানুষ এবার এই অন্যায়ের উপযুক্ত জবাব দেবে।”
অন্যদিকে, বিরোধীদের আনা সমস্ত ভোট চুরির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছে শাসক দল বিজেপি। দলের প্রবীণ নেতা সম্বিত পাত্র বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “দেশের সাধারণ মানুষ দেশের অগ্রগতি ও উন্নয়ন চান, কিন্তু বিরোধী দলগুলি দেশের এই গতিপ্রবাহকে রোধ করতে চায়। দেশের অগ্রগতির পথে বিভ্রান্তি তৈরি করার জন্য এটি একটি সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র। বিরোধীদের অনেকে হয়তো বিদেশি শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়ে এই কাজ করছেন। দেশের জন্য কোনটি মঙ্গলজনক তা বিচার করুন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনকল্যাণমূলক নীতির পাশে থাকুন, যাতে কোনোভাবেই দেশের মাথা নত না হয়।”