দু’টি মাথা, চারটে চোখ! গুজরাতের খামারে মিলল বিরলতম সাপ, অদ্ভুত দর্শন এই প্রাণীকে দেখতে উপচে পড়ল ভিড়!

গুজরাতের দাহোড় জেলার ধনপুর তালুকের একটি গ্রামীণ খামার থেকে অত্যন্ত বিরল ও অস্বাভাবিক গঠনের একটি দুই মাথা বিশিষ্ট সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রায় ছয় ইঞ্চি দীর্ঘ এই সাপটিকে ঘিরে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র চাঞ্চল্য ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের মতে, সাপটির শরীরে ‘বাইসেফালি’ (Bicephaly) নামক এক অস্বাভাবিক শারীরিক বিকাশ ঘটেছে, যার ফলে ভ্রূণ অবস্থার ত্রুটির কারণে একটির পরিবর্তে দুটি মাথা ও দুই জোড়া চোখ বিকশিত হয়েছে। সাপটির ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরই স্থানীয় এলাকাবাসী এবং ওয়াইল্ডলাইফ প্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা দেখা দিয়েছে।

খামারটিতে সাপটিকে ঘোরাফেরা করতে দেখে স্থানীয় লোকজন আতঙ্কিত না হয়ে সেটিকে নিরাপদে ধরার ব্যবস্থা করেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় স্থানীয় অলাভজনক বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী সংস্থা ‘দাহোড় প্রকৃতি মিত্র মণ্ডল’। বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা করে নিশ্চিত করেছেন যে সাপটি বিষাক্ত নয় এবং মানুষের জন্য এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ। বিরল প্রজাতির এই সাপটি মূলত ‘উল্ফ স্নেক’ (Wolf Snake) গোত্রের। সাপটির দুটি মাথাতেই পৃথক মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্র রয়েছে, যা প্রাণীজগতের ক্ষেত্রে অত্যন্ত দুর্লভ এক ঘটনা।

বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ভ্রূণের পরিপূর্ণ বিভাজনের ত্রুটির কারণে সাধারণত সাপ, কচ্ছপ বা অন্যান্য সরীসৃপের মধ্যে এই ধরনের ‘বাইসেফালি’ বা দুই মাথা বিশিষ্ট অবস্থা তৈরি হতে পারে। তবে বন্যপ্রকৃতিতে এমন প্রাণী বেঁচে থাকা অত্যন্ত দুরূহ, কারণ দুই মাথার আলাদা চিন্তাভাবনা ও নড়াচড়ার কারণে শিকার ধরা বা বিপদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। উদ্ধারকারী সংস্থাটি জানিয়েছে, গুজরাতে এই প্রথম এমন কোনো দুই মাথা বিশিষ্ট সাপ উদ্ধার করা হলো। এর আগে গোটা ভারতে হাতেগোনা মাত্র কয়েকটি এমন বিরল গোখরো ও উল্ফ স্নেক পাওয়া গেছে। বর্তমানে প্রায় এক বছর বয়সী এই বিরল সাপটিকে ঘিরে ওয়াইল্ডলাইফ মহলে ব্যাপক কৌতূহল ও গবেষণা শুরু হয়েছে।