মহালয়ার ভোরে নস্টালজিয়ায় ভাসলেন স্বাগতা মুখোপাধ্যায়! হারানো দিনগুলোর কথা মনে করে কী বললেন অভিনেত্রী?

মহালয়া মানেই বাঙালির কাছে শুধুমাত্র দেবীপক্ষের সূচনা নয়, বরং শৈশবের স্মৃতি, পরিবারের সঙ্গে কাটানো সময় আর একরাশ নস্টালজিয়া। আশ্বিনের ভোরে চারপাশ যখন নিস্তব্ধ, তখন বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের সেই চেনা কণ্ঠে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ বাঙালির ঘরে ঘরে যেন তৈরি করে এক অন্য আবহ। সময় বদলেছে, বদলেছে মানুষের জীবনযাপনও। কিন্তু মহালয়ার ভোরের সেই আবেগ আজও বাঙালির মনে একইভাবে রয়ে গিয়েছে।

সময়ের সঙ্গে অনেকের কাছেই বদলে গিয়েছে মহালয়া শোনার অভিজ্ঞতা। একসময় পরিবারের সকলে মিলে ভোরে উঠে রেডিওতে মহালয়া শোনা ছিল বাঙালি জীবনের অন্যতম চেনা ছবি। সেই সময়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকত চায়ের কাপ, গল্প, হাসি-آড্ডা এবং প্রিয়জনদের সান্নিধ্য। আজ সেই যৌথ পরিবারের ছবি অনেকটাই ফিকে। অনেক প্রিয় মানুষ নেই, বদলে গিয়েছে সংসারের চেহারা। তবুও মহালয়ার ভোর এলেই স্মৃতির দরজা যেন আপনিই খুলে যায়।

অভিনেত্রী স্বাগতা মুখোপাধ্যায়ের জীবনেও মহালয়ার সেই চেনা সকাল আজ অনেকটাই বদলে গিয়েছে। তাঁর কথায়, “আজও শুনি মহালয়া। তবে, আজ অনেকটাই পালটে গেছে। আগে সকালে ঘুম থেকে উঠে মহালয়া শোনার পর ভাইবোনেরা মিলে স্নান করে এক জায়গায় বসতাম। বাবা-মাও থাকত। এক রাউন্ড চা খেয়ে গল্পগুজব হত। বেশ একটা মজাদার ব্যাপার ছিল। এখন মাথার উপর অনেক গুরুজন নেই। জমজমাট পরিবারটা আর নেই। তাই কোথাও একটা তার কেটে আছে। তবু, আজও ভোরে ওই সময়ে উঠি তো। চালিয়ে দিই তো রেডিওটা। হয়তো মাঝে ঘুমিয়েও পড়ি। তবে, শুনিও তো। কিন্তু এবার আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, পুরোটা শুনবই।”

তিনি আরও বলেন, “ওই সময়ে উঠে রেডিয়োতে শোনার মজাই আলাদা। টিভির মহালয়া আমি দেখি না। ছোটবেলা থেকেই মন জুড়ে আছে সেই সুরগুলো। সুরগুলো শুনলেই মনে মনে আকাশটা অন্যরকম হয়ে গেল। আকাশের রঙ, বাতাসের গন্ধ, তার সঙ্গে আমার ছোটবেলা, আমার হারিয়ে যাওয়া মা-বাবা, দাদু-ঠাকুমা-সবাই একসঙ্গে জড়িয়ে আছে। টিভিতে তাঁরা কেউ নেই।”

শুধু স্বাগতা নন, বাঙালির একটা বড় অংশের কাছেই মহালয়া তাই আবেগের অন্য নাম। কারও কাছে তা মায়ের হাতের ভোরের চা, কারও কাছে বাবার সঙ্গে রেডিওর সামনে বসে থাকা, কারও কাছে ভাই-বোনের সঙ্গে ছোটবেলার স্মৃতি। কারও জীবনে সেই মানুষগুলি আজ আর নেই, কিন্তু মহালয়ার সুর তাঁদের যেন কয়েক মুহূর্তের জন্য ফিরিয়ে আনে। প্রযুক্তি বদলেছে, মহালয়া শোনার মাধ্যম বদলেছে, এসেছে টেলিভিশনের জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন। এখন চাইলে মোবাইল ফোনেও শোনা যায় সেই চিরপরিচিত স্তোত্রপাঠ। কিন্তু বাঙালির মনে মহালয়ার ভোর এখনও অনেকটাই সেই পুরনো। কারণ মহালয়া শুধু শোনা নয়, মহালয়া অনুভব করার বিষয়। সেই সুরের সঙ্গে মিশে থাকে শৈশব, পরিবার, হারিয়ে যাওয়া মানুষ আর পুজোর আগমনের এক অদ্ভুত আনন্দ।

প্রতি বছর আশ্বিনের ভোরে যখন ভেসে আসে সেই চেনা কণ্ঠ, তখন বয়সের ব্যবধান মুছে যায়। মুহূর্তের জন্য ফিরে আসে পুরনো বাড়ি, পুরনো মানুষ, পুরনো সকাল। আর বাঙালি বুঝতে পারে—সময় বদলালেও মহালয়ার আবেগের তারটি এখনও কোথাও না কোথাও অটুট রয়েছে।