শুক্রবারেই লেগে যাচ্ছে অমাবস্যা! জেনেনিন তর্পণ ও দানের সঠিক নিয়ম কী?

পিতৃপক্ষের সমাপ্তি ঘটে সর্বপিতৃ অমাবস্যার মাধ্যমে, যা হিন্দু ধর্মে অত্যন্ত পবিত্র ও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হয়। যে সমস্ত পূর্বপুরুষদের মৃত্যুর সঠিক তিথি জানা নেই কিংবা কোনও কারণে নির্দিষ্ট দিনে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি, তাঁদের স্মরণে এই দিনটিতে তর্পণ, শ্রাদ্ধ এবং পিণ্ডদান করা হয়। আগামী ২০২৬ সালে ১০ অক্টোবর, শনিবার পালিত হবে সর্বপিতৃ অমাবস্যা বা মহালয়া অমাবস্যা।
সর্বপিতৃ অমাবস্যার তিথি ও সময়
পঞ্জিকা অনুযায়ী, আগামী ৯ অক্টোবর অমাবস্যা তিথি রাত ৯:৩৫ মিনিটে শুরু হয়ে চলবে ১০ অক্টোবর রাত ৯:১৯ মিনিট পর্যন্ত। সেই হিসেবে ১০ অক্টোবর সারাদিনই তর্পণ ও শ্রাদ্ধানুষ্ঠান সম্পাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শাস্ত্রমতে, পিতৃপুরুষকে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য ১০ অক্টোবর সকাল ১১:২৪ মিনিট থেকে দুপুর ১:৫৬ মিনিট পর্যন্ত সময়টিকে সবচেয়ে শুভ বলে ধরা হয়েছে।
কেন এই দিনের এত গুরুত্ব?
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, যদি কোনও পরিবারের কোনো পূর্বপুরুষের মৃত্যুর তারিখ অজানা থাকে বা সেই তিথিতে শ্রাদ্ধ করা না হয়ে থাকে, তবে সর্বপিতৃ অমাবস্যার দিন তাঁদের উদ্দেশ্যে তর্পণ করা যায়। সমস্ত জ্ঞাত ও অজ্ঞাত পূর্বপুরুষদের স্মরণ করে ভক্তিভরে জল ও তিল দিয়ে তর্পণ করার রীতি যুগ যুগ ধরে চলে আসছে।
এই দিনে কী কী করা উচিত?
পারিবারিক ঐতিহ্য ও পুরোহিতের নির্দেশ মতো তর্পণ, পিণ্ডদান ও শ্রাদ্ধানুষ্ঠান সম্পন্ন করতে পারেন।
এই দিনে গরু, কাক ও কুকুরকে খাবার খাওয়ানোর পাশাপাশি অভাবী মানুষদের খাদ্য ও বস্ত্র দান করার বিশেষ ঐতিহ্য রয়েছে।
সামর্থ্য অনুযায়ী ব্রাহ্মণভোজন বা মন্দিরে খাদ্যসামগ্রী দান করা অত্যন্ত পুণ্যজনক বলে মনে করা হয়।
এছাড়া শ্রাদ্ধানুষ্ঠান চলাকালীন সাত্ত্বিক আহার ও সংযম বজায় রাখার প্রথা রয়েছে। তবে ব্রত, বয়স ও পারিবারিক রীতিনীতি অনুযায়ী এই নিয়মে ভিন্নতা থাকতে পারে।