মাথাঘামতে বাধ্য করবে এই সরকারি রিপোর্ট! ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর থেকে শুরু করে পেনশন নিয়ে বড়সড় পরিবর্তনের পথে কমিশন?

অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) গঠন এবং তার সুপারিশের অপেক্ষায় দিন গুনছেন কোটি কোটি কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগী। আলোচনা ও পরামর্শের ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে, যোগ্য ইউনিয়ন, সমিতি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে কমিশনের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিক বৈঠকটি বুধবার থেকে বেঙ্গালুরুতে শুরু হতে যাচ্ছে। যদিও এই বৈঠকের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা কমিশন এখনও চূড়ান্ত করেনি, তবুও বিগত কয়েক মাসে বিভিন্ন রেলওয়ে ও কর্মচারী সংগঠনের জমা দেওয়া স্মারকলিপিগুলোকে কেন্দ্র করে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে।
কর্মচারী ইউনিয়নগুলির জমা দেওয়া প্রস্তাব অনুযায়ী, বেতন কাঠামো, ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর, বিভিন্ন ভাতা, পেনশন সংস্কার এবং কর্মজীবনের অগ্রগতি বা ক্যারিয়ার প্রগ্রেশনের মতো বিষয়গুলি এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে পারে। বিশেষ করে ‘ইন্ডিয়ান রেলওয়েজ টেকনিক্যাল সুপারভাইজারস অ্যাসোসিয়েশন’ (IRTSA) এবং ‘রেলওয়ে সিনিয়র সিটিজেনস ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’ (RSCWS)-এর মতো প্রভাবশালী সংগঠনগুলির দাবি গোটা দেশের চাকরিজীবীদের নজর কেড়েছে। IRTSA-র পক্ষ থেকে ন্যূনতম বেতন ৫২,৬০০ টাকা করার জোরালো দাবি তোলা হয়েছে। পাশাপাশি, বিভিন্ন বেতন স্তরের জন্য ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর বৃদ্ধির প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে, যেখানে লেভেল ১ থেকে ৫-এর জন্য ২.৯২ এবং উচ্চ স্তরের জন্য ৪.৩৮ পর্যন্ত ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ধার্য করার দাবি জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, পেনশনভোগীদের স্বার্থরক্ষাকারী সংগঠন RSCWS অবসরকালীন নিরাপত্তা, মূল বেতনের সঙ্গে ভাতার সুষম সমন্বয় এবং মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পেনশন সংশোধনের ওপর জোর দিয়েছে। পাশাপাশি বার্ষিক ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট, নাইট-ডিউটি, ওভারটাইম, ঝুঁকি ও কঠোর পরিশ্রমজনিত ভাতার পুনর্বিবেচনার দাবিও জোরালো হয়েছে। তবে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই সমস্ত দাবি ও প্রস্তাবগুলি আপাতত বিভিন্ন ইউনিয়নের নিজস্ব স্মারকলিপির অংশমাত্র এবং এগুলোকে কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশ হিসেবে ধরে নেওয়া ভুল হবে। সমস্ত অংশীজনদের মতামত বিবেচনা করে অষ্টম বেতন কমিশন তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন ২০২৭ সালের মে-জুন নাগাদ কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পেশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।