ভোটের সকালেই ধুন্ধুমার! বুথ দখলের লড়াইয়ে তেঁতে উঠল নন্দীগ্রাম-রেজিনগর, গ্রেপ্তার প্রভাবশালী নেতা!

রাজ্যের উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগর। সোমবার সকাল থেকেই দুই কেন্দ্রেই দফায় দফায় উত্তেজনা, ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ, বহিরাগতদের তাণ্ডব এবং বিধায়ক গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র রাজনৈতিক সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও সিইও (CEO) দপ্তরের কড়া নজরদারির মাঝেই সকালের এই চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি সমগ্র রাজ্যে আলোড়ন ফেলে দিয়েছে।
মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে ভোটগ্রহণের শুরুতেই ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে। বুথে বুথে ঘুরে ভোটারদের প্রভাবিত করা এবং এলাকায় অশান্তি পাকানোর গুরুতর অভিযোগে রেজিনগরে এজেপি (AJUP) প্রধান তথা বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের আগে পুলিশের সঙ্গে বিধায়কের তীব্র ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতি বাধে। পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে জোর করে টেনেহিঁচড়ে গাড়িতে তোলার অভিযোগ তুলেছেন হুমায়ুন কবীর। তাঁকে ইতিমধ্যেই রেজিনগর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর গ্রেপ্তারি কাণ্ডে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে দ্রুত বিশদ রিপোর্ট তলব করা হয়েছে।
অন্যদিকে, উত্তপ্ত পরিস্থিতির আঁচ এসে পড়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামেও। নন্দীগ্রামের গড়চক্রবেড়িয়ায় ভোটারদের ভোটদানে বাধা দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, বহিরাগত দুষ্কৃতীরা এলাকায় ঢুকে ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে এবং লাইনে দাঁড়িয়েও ভোট দিতে বাধা দিচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে ছুটে যান কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। ভোটাররা তাঁর কাছে গিয়ে নিরাপত্তা না পাওয়ার অভিযোগ জানান। খবর পেয়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
শুধু ভোটের সকালেই নয়, গতরাত থেকেই নন্দীগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোটের আগের দিন গভীর রাতেও এলাকায় বাইক বাহিনী নিয়ে টহল ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছিল। বহু বুথে বিরোধী দলের পোলিং এজেন্টদের ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং ব্যাপক রিগিং চলছে বলে অভিযোগ তুলেছে কংগ্রেস। এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই সিইও (CEO) দপ্তরের কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। যখন বিরোধীরা একের পর এক কারচুপির অভিযোগ তুলছে, ঠিক সেই সময়েই নন্দীগ্রামের বিভিন্ন বুথে ঘুরে ভোটদান প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখেন বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ উৎসবের আমেজে চলছে দাবি করে তিনি এক ফাঁকে রেয়াপাড়া কালীবাড়িতে গিয়ে পুজোও দেন। উপনির্বাচনের এই রক্তক্ষয়ী ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন কতটা সফল হয়, এখন সেটাই দেখার।